ঈশ্বরদীতে পোষা বিড়ালের জন্য ফ্রি ক্যাটফ্লু ভ্যাকসিনেশন শুরু
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ২১:১৯ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

‘সুস্থ বিড়াল, সুস্থ পরিবার’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সহযোগিতায় গৃহপালিত (পোষা) বিড়ালের জন্য বিনামূল্যে ক্যাটফ্লু ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল কার্যালয়ের সামনে সপ্তাহব্যাপী (২২ জুন থেকে ৩০ জুন) এই ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হয়। কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. ফারুক হোসেন, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মইরুল ইসলাম খান, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিন, বিড়ালকে ক্যাটফ্লু ভ্যাকসিন দিতে আসা শিহাব হোসেন এবং এফএ (আই) মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, বিড়াল মানুষের অন্যতম প্রিয় পোষা প্রাণী। তাদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে নিয়মিত টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাটফ্লু ভ্যাকসিন বিড়ালকে ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ, বিশেষ করে ফেলাইন ভাইরাল রাইনোট্র্যাকাইটিস ও ক্যালিসিভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।
উপজেলার দাশুড়িয়া থেকে দাশুড়িয়া ডিগ্রি অনার্স কলেজের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মো. শিহাব হোসেন ৪টি বিড়ালছানা নিয়ে আসেন ক্যাটফ্লু ভ্যাকসিনেশনের জন্য। তিনি জানান, এক বছর আগে পাবনা থেকে একটি ছোট বিড়াল পোষার জন্য বাসায় নিয়ে আসেন। পরে সেটিকে লালন-পালন করতে থাকেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে বিড়ালটি বড় হওয়ার পর ৪টি বাচ্চা প্রসব করে।
বিড়ালের ৪টি বাচ্চার নাম রাখা হয়—চন্দ্র, তারা, মধু ও চিনি।
তিনি জানান, বিড়ালগুলোর খাবারের জন্য দাশুড়িয়ায় সপ্তাহে শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন হাট বসে। সেখান থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মাছ কেনা হয়। এছাড়াও বাসার নিয়মিত ভাত, রুটি, ডিমসহ অন্যান্য খাবার খাওয়ানো হয়। এতে বিড়ালগুলোর খাবারের জন্য মাসে প্রায় ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। আজ বাচ্চাগুলোকে ক্যাটফ্লু ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. ফারুক হোসেন বলেন, বর্তমানে বিড়ালের ভাইরাল ফ্লু বেশি দেখা যাচ্ছে। এ কারণে আমরা বিড়ালকে ক্যাটফ্লু ভ্যাকসিন দিচ্ছি। এই কার্যক্রম ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে তিনি দেখেছেন, অনেক বিড়াল ক্যাটফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। বিড়াল মালিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিড়ালগুলোর সুরক্ষার জন্যই এই ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিড়ালের বাচ্চার বয়স দুই মাস হলে এই ভ্যাকসিন দিতে হবে। পরবর্তী ডোজ ৪৫ দিন পরে এবং এরপর প্রতিবছর একবার করে দিতে হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন বলেন, এখন অনেকেই বাড়িতে বিড়াল পোষছেন। পোষা বিড়াল অনেক পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ক্যাটফ্লু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এই ভ্যাকসিন বিড়ালের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, সংক্রামক রোগের বিস্তার কমায় এবং তাদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও দীর্ঘায়ু জীবন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, এই ভাইরাসটি শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ করে। ফলে সর্দি, হাঁচি, চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়া, জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। বিড়ালকে ক্যাটফ্লু ভ্যাকসিন দেওয়ার ফলে অসুস্থতার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।
