ভাঙ্গুড়ায় জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর জমি দখলের অভিযোগ
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ১৫:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়ালব্রিজ রেলস্টেশনের উত্তর পাশে অবস্থিত জেলা পরিষদের প্রাচীন ডাক বাংলো। ১৯৩৮ সালে স্থাপিত এই বাংলোর চারপাশে সীমানা প্রাচীর রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গত রাতে বাংলোর উত্তর পাশের জায়গা দখল করে পাকা ইমারত নির্মাণ শুরু করেছেন গোলাম মোস্তফা নামের এক ব্যবসায়ী।
এর আগে, তিনি ডাক বাংলোর সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেন। রাতের আঁধারে এসব কাজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, গোলাম মোস্তফা বড়ালব্রিজ বাজারে জিগাতলা শ্যালো মেশিন ও যন্ত্রাংশ ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করেন। ডাক বাংলোর উত্তর পাশে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সুযোগ বুঝে রাতে ১৫/২০ জন লেবার-মিস্ত্রি লাগিয়ে জেলা পরিষদের জায়গা জবরদখল করে সেখানে আরসিসি পিলার নির্মাণ শুরু করেন।
পাবনা জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন বলেন, সেখানে আমাদের কেয়ারটেকার রয়েছে। তারপরও কীভাবে জায়গা দখল হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডাক বাংলোর প্রহরী আশরাফুল ইসলাম বলেন, রাতের অন্ধকারে ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা সীমানা ওয়াল ভেঙে জায়গা দখল করেছেন। রাতে বাংলোর ভেতরে ঘুমিয়ে থাকায় তিনি বাধা দিতে পারেননি। তবে আগের রাতে সীমানা দেয়াল ভাঙার সময় কেন কর্তৃপক্ষকে জানাননি— এ প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, কেয়ারটেকার আশরাফুল এই ওয়াল ভাঙার সঙ্গে জড়িত। রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, তাহলে সম্পদ হাতছাড়া হবেই।
জেলা পরিষদের প্রশাসক জহুরুল ইসলাম (বিশু) বলেন, মঙ্গলবার সকালে অফিসে বসেই ঘটনাটি শুনেছেন তিনি। জায়গা উদ্ধারসহ জবরদখলকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
জেলা পরিষদের বার্তা পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ভাঙ্গুড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে যান এবং জায়গা দখলের প্রমাণ পান। দেয়াল ভাঙার সত্যতাও মিলেছে। তবে সেখানে রেলওয়ে এবং জেলা পরিষদের সীমানা থাকায় জরিপের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।
