সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বাড়ছে, চরাঞ্চলে তীব্র ভাঙন

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ২১:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  এস. এম. তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং নতুন নতুন এলাকাও প্লাবিত হচ্ছে। সেইসঙ্গে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (হেডকোয়ার্টার) নাজমুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, কয়েকদিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও দফায় দফায় বর্ষণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কাজিপুর পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার এবং সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে চরাঞ্চলের চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ, কাজিপুর উপজেলার ভেটুয়া, চরগিরিশ এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব বাহুকাসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ভাঙনে তীর সংরক্ষণ বাঁধ ও বহু জায়গার জমি যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে।

ইতিমধ্যেই চর সলিমাবাদ ও পূর্ব বাহুকার ভাঙন রোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে কাজ চলছে।

এছাড়া কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের চরগিরিশে প্রচণ্ড ভাঙন শুরু হয়েছে। এ ভাঙনেও ইতোমধ্যে বহু জায়গার জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তবে চরের ভাঙন বিষয়ে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ ভাঙনের কারণ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোত ও নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিশেষ করে চরাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি দফায় দফায় প্রবল বর্ষণেও এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভাঙনকবলিত এলাকার অনেক স্থানে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ওই চর এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, এ ভাঙনে বহু জায়গার জমি নদীগর্ভে বিলীন হলেও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এভাবে ভাঙতে থাকলে মানচিত্র থেকে কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়ন হারিয়ে যাবে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে এ ভাঙন রোধের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। চৌহালীর চর সলিমাবাদ ও সিরাজগঞ্জের পূর্ব বাহুকায় ভাঙন রোধে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করা হয়েছে।

যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এখনই বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে ভাঙনে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধে ধস এবং বহু জায়গার জমি বিলীন হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।