পটুয়াখালীতে অগ্নিকাণ্ডে ৩ গরুর মৃত্যু, বাচাতে গিয়ে যুবক দগ্ধ
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ১৮:২৯ | অনলাইন সংস্করণ
মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার রামপুর গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক কৃষকের তিনটি গবাদিপশু (গরু) জীবন্ত পুড়ে মারা গেছে এবং বাকি দুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে আগুনের লেলিহান শিখা থেকে গবাদিপশুগুলো বাঁচাতে গিয়ে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন কৃষকের ছেলে রুবেল তালুকদার (২৫)। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার রামপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর তালুকদারের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ওই রাতেও মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে গোয়ালঘরে মশার কয়েল জ্বালানো হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে সেই কয়েলের আগুন থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জাহাঙ্গীর তালুকদার বলেন, “গোয়ালঘরে আমাদের ৫টি গরু ছিল। রাত ২টার দিকে হঠাৎ আগুনের তীব্র আলো ও উত্তাপে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাচ্ছিল। গোয়ালঘর থেকে গরুগুলো বের করতে গিয়ে আমার ছেলে রুবেল আগুনে গুরুতর আহত হয়। চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা পাঠিয়েছেন। আমার সব শেষ হয়ে গেল।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির খন্দকার জানান, মুহূর্তের মধ্যে আগুন গোয়ালঘর থেকে পাশের রান্নাঘরেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই গোয়ালঘর ও রান্নাঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ঘটনাস্থলেই তিনটি গরু পুড়ে মারা যায় এবং বাকি দুটি গরুর শরীরও মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে।
গুরুতর দগ্ধ রুবেল তালুকদারকে প্রথমে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) নেওয়া হয়। কিন্তু তার শরীরের একটি বড় অংশ দগ্ধ হওয়ায় এবং অবস্থার অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার বার্ন ইউনিটে প্রেরণের পরামর্শ দেন।
খবর পেয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও ত্রাণসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিদগ্ধ যুবকের চিকিৎসার খোঁজখবরও নেওয়া হয়েছে।
গ্রীষ্ম ও বর্ষার এ সময়ে গ্রামীণ এলাকায় মশার কয়েল বা গোয়ালঘরের ‘ধোঁয়া’ (তাওঁ) থেকে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
