লুটপাট ও পাচারমুখী বাজেট বাতিলের দাবিতে রংপুরে প্রতিবাদ

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ২১:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন ও অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১:৩০টায় রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা-পরিপন্থী, লুটপাট ও পাচারমুখী এবং উৎপাদন ও উৎপাদক-বিরোধী জাতীয় বাজেট সংশোধনের দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, রংপুর জেলা শাখার সমন্বয়ক চিনু কবির।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রায়হান কবীর।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কনক রহমান, সংগঠক সুমন ইসলাম, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন রংপুর জেলা ও মহানগরের ৯নং ওয়ার্ড সংগঠক মোছা. কামরুন্নাহার, ৪নং ওয়ার্ড সংগঠক মোছা. শামসুন্নাহার বেগম, ১৬নং ওয়ার্ড সংগঠক আলীম উদ্দিন, ১৫নং ওয়ার্ড সংগঠক শাহিনা বেগম, ২৩নং ওয়ার্ড সভাপতি মোছা. লিপি বেগম, অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ রংপুর জেলার পীরগাছা থানা সংগঠক আব্দুস সালাম, মিঠাপুকুর থানা সংগঠক মোসাম্মৎ মাহমুদা বেগম, মো. মশিউর রহমান, আল মোক্কাদ্দেস, রংপুর জেলা সংগঠক মো. মাজহারুল ইসলাম বাবু-সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের ছাত্র-জনতা বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু বর্তমান জাতীয় বাজেট সেই আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার এই বাজেট সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়িয়েছে, অথচ লুটপাট, অর্থপাচার ও মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের শ্রমজীবী, কৃষক, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর ভ্যাট ও কর দিয়ে রাষ্ট্রের রাজস্বের বড় অংশ জোগান দিলেও ধনী ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী বিভিন্ন উপায়ে কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে পারে না। তারা অবিলম্বে সম্পদ কর চালুর দাবি জানান এবং বলেন, যাদের সম্পদ বেশি, তাদের করও বেশি হতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, জ্বালানি খাতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করা হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। সঠিক নীতি গ্রহণ করলে দেশের জনগণের ওপর চাপ কমানো এবং আমদানি-নির্ভরতা হ্রাস করা সম্ভব।

সমাবেশ থেকে আগামী ২৭ জুন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ আয়োজিত ‘ছায়া সংসদ’-এ সর্বস্তরের জনগণকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। সেখানে জনগণের পক্ষে একটি বিকল্প গণমুখী বাজেট উপস্থাপন করা হবে, যা উৎপাদন, কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা তুলে ধরবে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের স্বার্থবিরোধী এই বাজেট সংশোধন করতেই হবে। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ লুটপাট ও পাচারের সুযোগ আর দেওয়া হবে না। বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তারা।