পালিয়ে বিয়ে করা তরুণীকে শ্বাসরোধে হত্যা, ৪ মাস পর ভাই-ভাবী গ্রেপ্তার
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ২৩:৪০ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করায় নুসরাত জাহান নুপুর (২৬) নামে এক তরুণীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় চার মাস পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার আলামত পাওয়ার পর নিহতের ভাই মো. খালিদ হাসান মিলু (২৫) ও ভাবী মোছা. দিলরুবা আক্তার দিসা (২২)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৬ জুন) পীরগাছা থানা পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে নিহতের স্বামী আহাদ আলী বাদী হয়ে নির্যাতন ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সতন্তরা গ্রামের মৃত নুর নবী সরকারের মেয়ে নুসরাত জাহান নুপুর ভালোবেসে আহাদ আলীকে বিয়ে করেছিলেন। তবে ছেলের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় এ বিয়ে মেনে নেয়নি নুপুরের পরিবার।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে অসুস্থতার কথা বলে কৌশলে নুপুরকে বাবার বাড়িতে ডেকে আনা হয়। সেখানে তাকে স্বামীকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় নুপুর ও তার স্বামীকে মারধর করা হয়। মারধরের পর আহাদ আলী সেখান থেকে চলে গেলে নুপুরকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয় এবং মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়।
ঘটনার দিন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নুসরাত জাহান নুপুর বাবার বাড়িতে মারা যান। এ ঘটনায় পীরগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (নং-৬/২৬) দায়ের করা হয় এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের লেকচারার ডা. জামিল আহমেদের লিখিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নুপুরের মৃত্যু শ্বাসরোধে হত্যার কারণে হয়েছে। এরপরই মামলার তদন্তে নতুন মোড় নেয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) নিহতের স্বামী আহাদ আলী বাদী হয়ে নুপুরের ভাই, ভাবী, মা ও ফুফুকে আসামি করে নির্যাতন ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ নুপুরের ভাই ও ভাবীকে গ্রেপ্তার করে।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার দায় কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
