চুয়াডাঙ্গায় অপহৃত কিশোর রামিজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ১৯:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গার প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা শহর থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে অপহৃত রামিজ মিয়া (১৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি লালটু মিয়া (৪০)কে দীর্ঘ ১৮ দিন পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় বালিয়াকান্দি থানাধীন নলিয়া গ্রামের রেলস্টেশন জামালপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও অপহৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গা উপজেলা শহর এলাকা থেকে রামিজ মিয়াকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। এরপর অপহৃত কিশোরের প্রবাসী বাবার কাছে মুঠোফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
দাবিকৃত মুক্তিপণ না পেয়ে অবশেষে ৩ দিন পর, গত ৮ জুন রাতে সদর উপজেলার কুতুবপুর লাল ব্রিজ মাঠসংলগ্ন অর্জুন খালের পাশে জনৈক মজিদের জমির পুকুরসংলগ্ন স্থানে নিয়ে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে রামিজকে হত্যা করে অপহরণকারীরা। পরে মরদেহ পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়।
গত ১৩ জুন দুপুরে পুকুর থেকে তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ ১৮ দিন পর শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও সদর থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর হোসেন আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, বালিয়াকান্দি থানা পুলিশের সহযোগিতায় নলিয়া গ্রামের রেলস্টেশন জামালপুর বাজার এলাকা থেকে সদর উপজেলার শিবপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি লালটু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (২৭ জুন) সকালে তাকে চুয়াডাঙ্গা আদালতে হাজির করা হয়।
মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত লালটু মিয়া একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে থানায় তিনটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আদালতে রামিজ মিয়া হত্যার কথা স্বীকার করেছে লালটু মিয়া। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশিটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
রুহুল কবীর খান, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে আমরা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।”
