যমুনার ভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি-জায়গাজমি, মানবেতর জীবন চরবাসীর
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ২০:১৮ | অনলাইন সংস্করণ
এস.এম. তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেইসঙ্গে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও জায়গাজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং সেইসঙ্গে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে চৌহালী, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কয়েকটি স্থানে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যেই এ ভাঙনে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও জায়গাজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও অনেক এলাকা ভাঙনের মুখে পড়েছে। অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তবে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব বাহুকায় ভাঙন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও চৌহালী ও কাজিপুরের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অবশ্য স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় সারা বছরই যমুনার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন চলতেই থাকে। বিশেষ করে চলতি মাসে দুই দফায় চৌহালী ও কাজিপুরে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড যথাসময়ে ভাঙন এলাকা চিহ্নিত করতে না পারায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা আক্ষেপ করে আরও বলেন, ভাঙন শুরু হলে তখনই ভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এ ধরনের জরুরি ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। প্রতিবছরই এ ভাঙন চলতে থাকে এবং বহু পরিবার এ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যেই ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ভাঙন রোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেছেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, পাহাড়ি ঢলে যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। স্রোত ও নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্তের কারণে এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
