ফরিদপুরে মেলা থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ২০:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

  ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় মেলা থেকে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর আট বছর বয়সী এক শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

তবে যিনি মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে ফোন করে জানান, সেই দোলনার কর্মচারী ইয়াছিন ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

নিহত শিশুর নাম শাহাদাত হোসেন (৮)। সে সদরপুর উপজেলার চরনাছিরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া পুরাতন ঘাট এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে এবং হানিফ হাজীর ডাঙ্গী কওমি মাদ্রাসার ছাত্র।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে সদরপুর উপজেলার চরনাছিরপুর ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী একটি কাশবন থেকে শিশুটির গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৬ জুন) চন্দ্রপাড়া দরবারসংলগ্ন ট্রলারঘাটে মহররম উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় ঘুরতে গিয়ে শাহাদাত নিখোঁজ হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা মাইকিংসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাননি।

সোমবার দুপুরে মেলায় থাকা একটি দোলনার কর্মচারী ইয়াছিন (১৮) নিহত শিশুর বোন রওশনআরাকে ফোন করে মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে জানায়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরা কাশবনে গিয়ে শাহাদাতের মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন। তবে ফোন করার পর থেকেই ইয়াছিন পলাতক রয়েছে।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মেলার দোলনার মালিকসহ কয়েকজন কর্মচারীকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন— দেলোয়ার বেপারী, রিয়াজ, তামিম মোল্যা, জিহাদ মাহমুদ এবং শাকিল ইসলাম।

খবর পেয়ে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউন দীপু এবং সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সদরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে।