ফরিদগঞ্জে খাল দখল করে ৩১ অবৈধ স্থাপনা, ব্যাহত চাষাবাদ

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ১৬:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা নির্মাণের মহোৎসব চলছে। উপজেলার চৌরাঙ্গী বাজারে প্রবাহিত খালের ওপর গত দুই দশকে গড়ে তোলা হয়েছে ৩১টি অবৈধ স্থাপনা। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

লিজ ছাড়াই সরকারি সম্পত্তি দখল করে এভাবে বাণিজ্য চললেও রহস্যজনক কারণে এতদিন নীরব ছিল প্রশাসন। তবে এবার অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পাইকপাড়া (উত্তর) ইউনিয়নের চৌরাঙ্গী বাজারের মূল সড়কের দক্ষিণ পাশ দিয়ে প্রবাহিত খালের দুই পাশজুড়ে পাকা ও আধাপাকা ৩১টি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় অন্তত ১৩ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব দোকান নির্মাণ করে ভাড়া আদায় করছেন। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে চলা এই দখলদারিত্বের কারণে সাধারণ কৃষকদের দাবি—দ্রুত এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হোক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৪ সাল থেকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে খালের জায়গা দখল শুরু হয়। অবৈধ দখলদারদের তালিকায় রয়েছেন প্রয়াত চেয়ারম্যান মহসিন পাটওয়ারী, আওয়ামী লীগ নেতা মহিন উদ্দিন, মনির মোল্লা, ইমান মোল্লা, বিএনপি নেতা শাহীন মোল্লা, জয়নাল মিজি, শহীদ মোল্লা, বাবুল মোল্লা, শাহ আলম মোল্লা, খোকন মোল্লা, খোরশেদ, জাহাঙ্গীর শেখ, মনা পাটওয়ারী ও বুলু মাস্টারসহ আরও অনেকে।

দখলদারদের দাবি, তারা সরকার থেকে লিজ নিয়ে এসব স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তবে বাস্তবে এর স্বপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তারা। এমনকি খালের জায়গা লিজ দেওয়ার কোনো বিধানই নেই বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

অবৈধ দোকান মালিকদের অন্যতম ‘বাবুল ইলেকট্রনিক্স’-এর স্বত্বাধিকারী বাবুল মোল্লা জানান, সম্প্রতি কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে প্রয়াত মহসিন পাটওয়ারীর ছেলে পাভেল পাটওয়ারী-কে তিনি ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। তবে লিজের বৈধতা সম্পর্কে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার ফজলে মওলা বিন মহসীন (পাভেল) পাটওয়ারী জানান, বর্তমানে লিজের কোনো প্রমাণপত্র তাদের কাছে নেই। তবে ভবিষ্যতে পাবেন বলে তিনি আশা করছেন। লিজ করে দেওয়ার নামে টাকা তোলার বিষয়টি অস্বীকার করলেও তিনি স্বীকার করেন, খাল খননের জন্য সম্মিলিতভাবে কিছু টাকা তোলা হয়েছে।

এদিকে আরেক দোকান মালিক বুলু মাস্টার জানান, লিজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন করে কাগজপত্র ঠিক করার নামে তার কাছে ৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা দেননি। তিনি বলেন, “সরকার চাইলে উচ্ছেদ করুক, আমি আর টাকা দেব না।”

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া এ বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “খালের অংশ লিজ দেওয়ার কোনো বিধান নেই। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় খুব শিগগিরই এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম জানান, খালের জায়গা লিজ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ওই এলাকার অবৈধ স্থাপনার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।