ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, যুবকের মৃত্যু
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে রাতের দিকে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত আটটার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার সদরদি ও হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন (২০) ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুরিয়া সদরদি এলাকার মিলন বাবুর্চির ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে সদরদি ও হাসামদিয়া গ্রামের কয়েকজন কিশোরের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যার পর দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে রাত আটটার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে অন্ধকারে ছোড়া গুলিতে সুমন গুরুতর আহত হন বলে স্থানীয়দের দাবি। তাকে প্রথমে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। তবে গুলির উৎস বা কীভাবে তিনি আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
সংঘর্ষের কারণে রাত আটটার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে নয়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে রাত সাড়ে নয়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সদরদি ও হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য তিনি নিজে ঘটনাস্থলে ভারী পুলিশ ফোর্সসহ অবস্থান করছেন।
এদিকে সংঘর্ষে সুমনের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে স্থানীয়রা দাবি করেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরে ভাঙ্গা থানা পুলিশ জানায়, তারা জানতে পেরেছে সুমন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।
মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করলেও, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, গুলির উৎস এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
