হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবিতে রংপুরে আলু চাষিদের গণ-অনশন

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ২১:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

রংপুর বিভাগের হিমাগার মালিকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ও একতরফাভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১২টায় রংপুর জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতি এবং রংপুর বিভাগীয় আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির যৌথ আয়োজনে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়-এর সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

গণ-অনশনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েকশ আলু চাষি ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অনেককে কাফনের কাপড় পরে অংশ নিতে দেখা যায়, যা তাদের দুর্দশা ও ক্ষোভের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সহ-সভাপতি তসলিম উদ্দিন, আলু চাষি ও ব্যবসায়ী হাফেজ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, আলু চাষি আবু তাহের, জাহিদুল ইসলাম-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আলু উৎপাদনের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে রংপুরের হিমাগারগুলোতে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অথচ খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জ-সহ দেশের অন্যান্য আলু উৎপাদনকারী এলাকায় একই সেবার জন্য প্রতি বস্তা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

রংপুর জেলা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, “একই দেশে একই ধরনের সেবার জন্য একেক অঞ্চলে একেক ধরনের ভাড়া গ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রংপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। অবিলম্বে হিমাগার ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

সমিতির সহ-সভাপতি তসলিম উদ্দিন বলেন, “উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষক এমনিতেই লোকসানের মুখে। এর ওপর অতিরিক্ত হিমাগার ভাড়া কৃষকদের আরও সংকটে ফেলছে। দ্রুত তদন্ত করে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না করলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।”

অনশনকারীরা অবিলম্বে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে হিমাগার ভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন ও দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

এ ছাড়া দাবি আদায়ে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।