চুয়াডাঙ্গায় নির্মাণ হচ্ছে ৮০০ কিলোওয়াটের সোলার প্লান্ট

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮:২২ | অনলাইন সংস্করণ

  শরীফ উদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা শহরের একাডেমি মোড়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-এর (ওজোপাডিকো) পরিত্যক্ত আবাসিক এলাকায় প্রায় ৪০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে শুরু হয়েছে ৮০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্লান্ট নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রায় ৫ বিঘা (১.৬৯ একর) জমির ওপর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এটি চালু হলে স্থানীয় বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত এলাকাটি নতুন ব্যবহারের আওতায় আসবে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ওজোপাডিকোর এই আবাসিক এলাকায় চারটি দোতলা ভবন রয়েছে। ভবনগুলোর জানালা-দরজাসহ বিভিন্ন মালামাল নষ্ট বা হারিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এলাকাটি অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের জন্যও পরিচিত হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি এখান থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

বর্তমানে সোলার প্লান্টের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে পুরো এলাকায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছে। প্রাচীর নির্মাণ শেষ হলে পরিত্যক্ত ভবনগুলো অপসারণ করে মূল সোলার প্লান্ট নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বাপ্পি হোসেন জানান, ওজোপাডিকোর ১.৬৯ একর জমির সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজের ঠিকাদার সাইফুল হোসেন জোয়ার্দার। গত ২৫ জুন থেকে কাজ শুরু হয়েছে। এ কাজে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। দ্রুত কাজ শেষ করে মূল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জায়গা প্রস্তুত করা হবে।

ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, চুয়াডাঙ্গার মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে ওজোপাডিকোর ৫ বিঘা জমির ওপর থাকা পরিত্যক্ত ভবনগুলো অপসারণ করে সেখানে ৮০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্লান্ট নির্মাণ করা হবে।

উৎপাদিত বিদ্যুৎ চুয়াডাঙ্গাতেই সরবরাহ করা হবে। এটি চালু হলে স্থানীয় বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।

পরিবেশবান্ধব এ গ্রিন এনার্জি প্রকল্পের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত এলাকাটি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। সেখানে সোলার প্লান্ট নির্মিত হলে একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে এলাকাটির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করে চুয়াডাঙ্গা গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।