সিরাজগঞ্জে গ্রীষ্মকালীন ঝিঙ্গা চাষে কৃষকের মুখে হাসি
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ২১:০২ | অনলাইন সংস্করণ
এস.এম. তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে এবার গ্রীষ্মকালীন ঝিঙ্গা ও বিভিন্ন সবজি চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যেই এ চাষে অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরেছে। হাটবাজারে ঝিঙ্গার দাম ভালো থাকায় এখন কৃষকেরা খুশি। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদও বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার চরাঞ্চলসহ ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গ্রীষ্মকালীন ঝিঙ্গা ও অন্যান্য সবজি চাষে ৮ হাজার ৫শ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সবজি চাষ করেছেন কৃষকেরা।
সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, বেলকুচি, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে।
এ গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে রয়েছে ঝিঙ্গা, কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, পটোল, বেগুন, ঢেঁড়স, পেঁপে, লাউ, ডাঁটা ও সিম। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রায় ৩ মাস আগে এসব দেশি সবজি চাষ করেছেন কৃষকেরা। তবে হাইব্রিড সবজি সারা বছরই চাষাবাদ হয়ে থাকে।
ঝিঙ্গাসহ এসব সবজির হাটবাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি। তবে এ অঞ্চলে ঝিঙ্গার চাহিদা অনেকটাই বেশি। এজন্য হাটবাজারে ঝিঙ্গার কদরও কম নয়। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজি চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
বিশেষ করে কৃষক-কৃষাণীরা বাড়ির আঙিনাসহ ফসলি জমিতে এ ঝিঙ্গা চাষ করছেন। অবশ্য এ ঝিঙ্গা জাংলায় বেশি উৎপাদন হয়। তবে যমুনা নদীর তীরবর্তী ৫টি উপজেলার চরাঞ্চলে ঝিঙ্গা ও বিভিন্ন সবজি বেশি চাষ হয়েছে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী নতুনপাড়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক সোরহাব আলী (৬৭) প্রায় ২২ শতক জমি লিজ নিয়ে গ্রীষ্মকালীন ঝিঙ্গা চাষ করেছেন। তিনি এ সবজির সঙ্গে অন্যান্য সবজির চাষাবাদও দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। এ চাষে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।
প্রায় ২ মাস ধরে এ জমি থেকে ঝিঙ্গা উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং এ ঝিঙ্গা খুচরা বাজারে প্রথমে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বাজারে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। এ ঝিঙ্গা ও অন্যান্য সবজি বিক্রি করেই তার সংসার চলে।
ইতোমধ্যেই তিনি প্রায় ৭৫ হাজার টাকার ঝিঙ্গা বিক্রি করেছেন এবং আরও ১ থেকে ২ মাস ঝিঙ্গা উৎপাদন হবে। খরচের তুলনায় এ জমি থেকে কয়েক গুণ লাভের আশা করছেন তিনি।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহম্মেদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ আগাম গ্রীষ্মকালীন ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজি চাষে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকে। এবার এ চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকেরা কম খরচে ঝিঙ্গা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং বাজারে দাম ভালো থাকায় তারা খুশি।
