ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সড়ক নির্মাণকাজে হরিলুটের অভিযোগ!

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার একটি সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সোহেল রানার বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়া পাওয়ার গ্রিড-৩৩ কেভি থেকে সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার ঈদগাহ মাঠের গেট পর্যন্ত মুসলিমনগর মহল্লায় পৌরসভার আওতায় প্রায় সাড়ে ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪২০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “মেসার্স নুপুর এন্টারপ্রাইজ”।

অভিযোগ রয়েছে, কার্যাদেশ ও সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

কাজে নিম্নমানের খোয়া, বালি, ইট ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তাটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা রোজাউল ইসলাম বলেন, “ইঞ্জিনিয়াররা আসেন কি না, তা নিয়েই সন্দেহ আছে। ঠিকাদারের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারের যোগসাজশে এই অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। যে ইট, খোয়া ও বালি ব্যবহার করা হয়েছে, তা একেবারেই নিম্নমানের।”

এলাকাবাসী মতিউর রহমান বলেন, “দুর্নীতিবাজদের কারণে আমরা সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। জনগণের টাকা যেন সঠিক জায়গায় সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, এটাই আমাদের দাবি।”

রহুল ইসলাম বলেন, “যে ইটগুলো দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো তিন নম্বর। পাঁচ বছর তো দূরের কথা, তার আগেই ভেঙে যাবে। ইঞ্জিনিয়ার এসে দেখে গেছেন, কিন্তু কিছুই বলেন না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেরদৌস বলেন, “জনগণের টাকা শুধু খরচই হবে, ফলাফল শূন্য। এখানে হরিলুট চলছে।”

ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, “এত নিম্নমানের কাজ এর আগে কখনো দেখিনি।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি আলসিয়া মেম্বার সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত সরে যান। যাওয়ার আগে তিনি বলেন, “আপনারা যা খুশি করেন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”

অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নমানের ইট পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে অন্যান্য উপকরণ সঠিক আছে বলে তিনি দাবি করেন।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রশাসক সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাস্তা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। নিম্নমানের কাজ অপসারণ করে নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের মধ্যে যোগসাজশের বিষয়টিও সামনে এসেছে। প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।