ভোটকেন্দ্র মেরামতের বরাদ্দ অর্থ ৪ মাস পর সরকারি কোষাগারে জমা

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১৬:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

  ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ভোটকেন্দ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলনের চার মাস পর তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার।

জানা গেছে, গত সংসদ নির্বাচনে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র মেরামতের জন্য ২০ লাখ ৬০ হাজার ১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম ভোটহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত (দু’দফায়) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দক্ষিণ চরভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ১ লাখ টাকা উত্তোলন করে বিদ্যালয় দুটিকে প্রদান না করে নিজের কাছে রেখে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু তাই নয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পিইডিপি-৪ প্রকল্প ও স্লিপ প্রকল্পে উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সর্বমোট ১৭ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওই টাকা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে উত্তোলন করে নিজ অ্যাকাউন্টে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উৎকোচের বিনিময়ে মাত্র ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটিকে ১২ হাজার টাকার চেক (ভ্যাট কর্তন করে) প্রদান করেন। অন্য ৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ উৎকোচ প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে উপজেলা শিক্ষা অফিসার টাকা প্রদান থেকে বিরত থাকেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ-সংক্রান্ত একটি সংবাদ গত ১ ও ২ জুলাই বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রকাশ হলে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের টনক নড়ে। পরে গত ৫ জুলাই ৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ডেকে ১০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।

অপরদিকে, গত ৬ জুলাই কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী-এর উপস্থিতিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ভোটকেন্দ্র মেরামত না করে উত্তোলন করা ২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল-মাহমুদ জানান, “আমাদের স্লিপের টাকার চেক ৫ জুলাই প্রদান করা হয়েছে।”

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে পরামর্শ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (ভোটকেন্দ্র) মেরামতের টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী স্লিপের টাকা প্রদান এবং ভোটকেন্দ্র মেরামতের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।