সিরাজগঞ্জে অপহৃত প্রবাসী উদ্ধার, নগদ টাকা ও মোবাইল জব্দ
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১৯:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের প্রবাসী রাসেল ফকিরকে (৩০) বাড়িতে ডেকে এনে অপহরণের পর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনার মূলহোতা লাকী খাতুনকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহৃত প্রবাসীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ-সলঙ্গা সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম সোমবার বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বেলকুচি উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের রহিম ফকিরের ছেলে সৌদি প্রবাসী রাসেল ফকির তিন মাসের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসেন এবং গত ৪ জুলাই বিকেল থেকে নিখোঁজ হন। পরিবারের লোকজন বহু খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরদিন সকালে রাসেলের মোবাইল ফোন থেকে তার স্ত্রীর কাছে ফোন আসে। ফোনে এক নারী নিজেকে অপহরণকারীদের পক্ষের লোক পরিচয় দিয়ে বলে, রাসেল তাদের জিম্মায় রয়েছে এবং তাকে জীবিত ফিরে পেতে হলে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে এবং তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিকাশ নম্বরে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
পরবর্তীতে রাসেলের পরিবার তাকে উদ্ধারের আশায় একই এলাকার মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ডের একটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে দুই দফায় ৫০ হাজার টাকা পাঠায়। এ টাকা পাওয়ার পরও অপহরণকারীরা তাকে মুক্তি না দিয়ে নগদ আরও ৫ লাখ টাকা নিয়ে সলঙ্গার তেলকুপি গ্রামে আসতে বলে।
এ বিষয়ে রাসেলের পরিবার সলঙ্গা থানায় অভিযোগ করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে।
রোববার রাতে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু'র বিশেষ নির্দেশে ওসি আসলাম আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ছদ্মবেশে ৫ লাখ টাকা নিয়ে তেলকুপি নদীর পাড়ে অবস্থান নেয়। এ সময় লাকী খাতুন টাকা নিতে আসলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেলকুপি পূর্বপাড়ায় তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর এক আসামি পালিয়ে যায়। পরে লাকীর শয়নকক্ষের তালা ভেঙে সেখান থেকে অপহৃত রাসেল ফকিরকে উদ্ধার করা হয়। মুক্তিপণ আদায়ে ব্যবহৃত সিমসহ একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
