করতোয়া নদীতে সেতুর দাবিতে এলাকাবাসী, দুর্ভোগে ১৬ গ্রামের মানুষ
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৭:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ
সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীর কুলানন্দপুর ঘাটে একটি সেতুর অভাবে দুই পাড়ের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখানে স্থায়ী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রায় ১৫ থেকে ১৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন ছোট একটি খেয়া নৌকা বা অস্থায়ী ভেলা। একটি সেতুর অনুপস্থিতি শুধু মানুষের যাতায়াতকেই ব্যাহত করছে না, বরং থমকে দিয়েছে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে।
সরেজমিনে কুলানন্দপুর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে এ ঘাট দিয়ে নদী পারাপার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুষ্ক মৌসুমে কোনো মতে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং অনেক সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
কুলানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা হারুন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দেশে এত উন্নয়ন হলেও আমাদের এই এলাকায় তার ছোঁয়া লাগেনি। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, তার ওপর নদী পারাপারের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। এই অবহেলার কারণে ওপারে বিয়ে পর্যন্ত দিতে চায় না অনেকে। আমরা যেন এক পিছিয়ে পড়া জনপদে বাস করছি।”
এ অঞ্চলের মূল চালিকাশক্তি কৃষি হলেও সেতুর অভাবে গ্রামীণ অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুই পাড়ের কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, আলু ও শাকসবজি সময়মতো বাজারে নিতে পারেন না। অনেক সময় নৌকায় পারাপারের সময় ফসলের ক্ষতি হয়। সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় চাষিরা ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে অনেক কৃষক চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে। অভিভাবকেরা নিরাপত্তার কারণে বর্ষাকালে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান, যার ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও একই চিত্র।
জরুরি প্রয়োজনে কোনো মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে চাইলে ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, যা রোগীর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি সেতুর অভাবে পুরো এলাকার উন্নয়ন থমকে আছে। এলাকায় কোনো নতুন ব্যবসা বা ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে উঠছে না, ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, কুলানন্দপুর ঘাটে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে সরাসরি ও সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে দুই পাড়ের মানুষের সময় ও যাতায়াত ব্যয় যেমন কমবে, তেমনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এলাকাবাসী দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
