সিরাজগঞ্জে লাউসহ সবজি চাষে বাম্পার ফলন, সন্তুষ্ট কৃষক

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৯:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

  এস. এম. তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে এবার গ্রীষ্মকালীন লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। হাট-বাজারে লাউয়ের কদর ও দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি। ইতোমধ্যেই এ লাউ চাষে অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গ্রীষ্মকালীন লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।

সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে উল্লাপাড়া, কাজিপুর, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া যমুনা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন চর এলাকায় লাভজনক এ সবজির চাষ করেছেন কৃষকেরা।

এসব সবজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে লাউ, কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডাঁটা ও বেগুন। প্রায় দুই মাস আগে কৃষকেরা লাউসহ এসব সবজির আবাদ করেন। ইতোমধ্যেই এসব সবজি হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে। তবে গ্রীষ্মকালীন লাউয়ের কদর বেশি এবং দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা বেশ সন্তুষ্ট।

কথায় আছে, লাউ দিয়ে বোয়াল মাছ ও টাকি মাছ রান্নার স্বাদ অন্যরকম। এ কারণে হাট-বাজারে গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন জাতের লাউয়ের চাহিদাও বেশি। বিশেষ করে চরাঞ্চলে লাউ দিয়ে বোয়াল মাছ রান্নার কদর রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় এ সবজি চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা এ চাষে বেশি ঝুঁকছেন। ফলে তাদের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। অনেক কৃষক বারোমাসি লাউ চাষ করে সংসার চালাচ্ছেন।

বিশেষ করে চরাঞ্চলের অনেক কৃষক গ্রীষ্মকালীন লাউ বাগান গড়ে তুলেছেন। খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। চলনবিল অঞ্চলে এক জমিতে লাউসহ তিন ধরনের সবজির চাষও করা হয়ে থাকে। লাউ চাষ বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড়, মাচা ও কৃষিজমিতেও হয়ে থাকে।

বর্তমানে হাট-বাজারে প্রতিটি লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রায় এক মাস আগে প্রতিটি লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া লাউশাকের চাহিদাও কম নয়। লাউশাক ভাজি ও ভর্তা জনপ্রিয় হওয়ায় শহর ও বন্দর এলাকায় এর কদর এবং দাম বেশি।

এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহম্মেদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, “গ্রীষ্মকালীন লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ চাষে কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যমুনার তীরবর্তী চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ সবজির চাষ বেশি হয়েছে। বাজারে লাউয়ের দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি।”