জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকির মধ্যেই চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৪ | অনলাইন সংস্করণ
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

ইউনিয়ন পরিষদ হলো স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। গ্রামের সাধারণ মানুষের সবচেয়ে কাছের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এটি। ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, নারী-পুরুষ—সব ধরনের মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। এজন্য আধুনিকতার এ যুগে ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ জনপদে নির্ভরযোগ্য আস্থার বাতিঘর হয়ে উঠেছে।
তবে সম্প্রতি বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের কমপ্লেক্স নির্মিত হলেও সেখানে বসার জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, উপযুক্ত পরিবেশ ও দৃষ্টিনন্দনতা কোনোটিই সন্তোষজনক নয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ২ নম্বর দিঘলীয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে এই জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের সেবাদান কার্যক্রম। মাথার ওপর ছাদ ধসে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন পরিষদের স্টাফ ও জনপ্রতিনিধিরা।
এছাড়াও সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সিলিং ফ্যান, কম্পিউটার এবং ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
২০০৩ সালে নির্মিত এ পরিষদ কমপ্লেক্সটি বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। ভবনটি যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই আতঙ্কে থাকেন ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা হাজার হাজার মানুষ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অত্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসকের বসার কক্ষে সিলিং চুঁইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। গরমের সময় ফ্যানের সুবিধাও নেই। ফ্যানের পাখা খুলে যে কোনো সময় কারও মাথায় পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ২ নম্বর দিঘলীয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাকসুদ হোসেন জানান, পরিষদের ভবনগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনগুলো সংস্কার না হলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ জানান, দিঘলীয়া ইউনিয়নসহ উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদ সংস্কারের জন্য লিখিত অনুমোদন পাওয়া গেছে। খুব দ্রুতই সংস্কারকাজ শুরু হবে।
