রংপুরে কুরিয়ার থেকে ১৬ হাজার নেশার ট্যাবলেট উদ্ধার, আটক ২

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ২১:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

রংপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে একটি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে ১৬ হাজার পিস অবৈধ নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর আরকে রোড এলাকার আইডিয়াল মোড়ে অবস্থিত স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসে অভিযান চালিয়ে এসব ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রংপুর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট রংপুরে আনা হয়েছে। খবর পেয়ে অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার অফিসে নজরদারি শুরু করে।

দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণের পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে একটি পার্সেল থেকে ১৬ হাজার পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে শরীফ ফার্মাসিউটিক্যালসের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক এবং পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রতিনিধি সাগরকে আটক করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

রংপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ওষুধের আড়ালে পরিচালিত এ ধরনের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

রংপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হোসেন বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে ১৬ হাজার পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, সম্প্রতি রংপুরসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মাদক কারবারের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

তাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। বিশেষ করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মাদক পরিবহনের অভিযোগ জনমনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে কুরিয়ার সেবার ওপর কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।