টানা বর্ষণে বেনাপোল বন্দরে আমদানিকারকদের দুশ্চিন্তা, ক্ষতির আশঙ্কা
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ১৬:১৯ | অনলাইন সংস্করণ
বেনাপোল প্রতিনিধি

একদিনের টানা বর্ষণে বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন শেডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোটি কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য হাঁটু পানিতে ভাসছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকরা।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে শেড, ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হলেও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় শত শত কোটি টাকার আমদানিকৃত মালামাল।
অবশ্য বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
গত রাত থেকেই এ অঞ্চলে বিরামহীন বৃষ্টি হচ্ছে। একটানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের ৩ নম্বর গেটের সামনে পাঁচটি শেডে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত মালামাল পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। এসব পানি পাওয়ার পাম্প দিয়ে বের করার চেষ্টা চলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, স্থানীয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা বলে আসলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কথাই আমলে নেয়নি। এর ফলে প্রায় শতাধিক আমদানিকারক সব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বীমা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণও দেয় না।
পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। গত বছরের বর্ষার সময় কমিটির লোকজনের তৎপরতা ২-১ দিন দেখা গেলেও পরে এ বিষয়ে আর কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি।
বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু জানান, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর হলো বেনাপোল। সরকার এ বন্দর থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এত বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় বছরের পর বছর এ দুর্দশা চললেও সরকার কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। বৃষ্টির পানি পণ্যাগারে ঢুকে মালামাল ভিজে নষ্ট হলে লোকসানের শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, বৃষ্টিতে বেশ কয়েকটি শেডে পানিতে মালামাল ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। বৃষ্টি বন্ধ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
