গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো: রংপুরে জামায়াত আমির

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ২১:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এ সমাবেশের আয়োজন করে।

জামায়াতের আমির বলেন, “আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা— আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারবো না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি, লড়াই আমরা করে যাবো, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করবো ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণও আমরা সরবো না। এই আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আবারও সেই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে গেলাম।”

শফিকুর রহমান বলেন, “যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল, সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি দুটি ভোট দেবেন— একটি তাঁর দলকে, আরেকটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’। তিনি প্রথমটি রক্ষা করেছেন, কিন্তু দ্বিতীয়টি রক্ষা করেননি।”

তিনি বলেন, “তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এ বাজেটে ১০ টাকারও কোনো বরাদ্দ নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া, ভালোবাসা, সমর্থন ও ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।”

সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, “বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে উসকানি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদই করছে না, প্রতিরোধের জন্য বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে সমানতালে জনগণও লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদের অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত একটি শব্দও আসেনি। কার ভয়ে, কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসকদের কথা আপনারা ভাবছেন? বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির স্পন্দন বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় ও আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়, সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে সবারই শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা— তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাই-পানাই বুঝি না। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই হবে।”