রংপুরে মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে মাদ্রাসা সুপার নিহত, আটক ১

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৫:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

রংপুর নগরীতে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় এক মাদ্রাসা সুপার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে তাজহাট থানা এলাকার তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবুল কাশেম (৪৫) মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের ছড়ান বালুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। বর্তমানে তিনি রংপুর মহানগরীর ধর্মদাস মিলনপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।

তিনি নগরীর জিয়াতপুকুর মাজার শরীফ দাখিল মাদ্রাসার সুপার এবং স্থানীয় মিলনপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজের কন্যাকে নিয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে আবুল কাশেম তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে পৌঁছালে রংপুর থেকে ঢাকাগামী আরএম স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়।

স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার মুহূর্তে তিনি মেয়েকে দ্রুত রাস্তার পাশে সরিয়ে দেওয়ায় শিশুটি প্রাণে বেঁচে যায়। তবে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আবুল কাশেম।

দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

পরে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার পর বাসটি সড়কের মাঝখানে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুনে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আগুনে পুড়ে যাওয়া আরএম স্পেশাল পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. মুর্তজা (৫৬) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।

দুর্ঘটনা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তদন্ত চলছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।