দিনাজপুরে আমন ধান রোপণে ব্যস্ত চাষিরা
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৭:১৪ | অনলাইন সংস্করণ
সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

চলতি আমন মৌসুমে খরিপ-১-এর আওতায় ২ লাখ ৭০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি বিভাগ। এ জেলায় এ পর্যন্ত আগাম জাতের প্রায় ২০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে।
ভরা মৌসুমে এখন জেলার প্রতিটি উপজেলায় কৃষকরা আমন ধান চাষের জন্য বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন বলেন, জেলায় চলতি আমন চাষ মৌসুমে খরিপ-১-এর আওতায় ২ লাখ ৭০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চফলনশীল জাতের জন্য ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫০ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের জন্য ২৫ হাজার ১৫০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের জন্য ৯ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি রয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন চাল। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভালো বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে রোপা আমন চাষে এবার কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, গত ৫ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ২০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। রোপা আমন চাষের জন্য উপজেলাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনাজপুর সদর উপজেলায় ২৫ হাজার ৫০০ হেক্টর, বিরল উপজেলায় ২৪ হাজার ৫০০ হেক্টর, বোচাগঞ্জ উপজেলায় ১৭ হাজার ৬০০ হেক্টর, কাহারোল উপজেলায় ১৪ হাজার ৭০০ হেক্টর, বীরগঞ্জ উপজেলায় ২৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর, খানসামা উপজেলায় ১৪ হাজার ৪০০ হেক্টর, চিরিরবন্দর উপজেলায় ২৪ হাজার ৪০০ হেক্টর, পার্বতীপুর উপজেলায় ২২ হাজার ৭৫০ হেক্টর, ফুলবাড়ী উপজেলায় ২৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর, বিরামপুর উপজেলায় ২৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর, নবাবগঞ্জ উপজেলায় ২৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর, হাকিমপুর উপজেলায় ১২ হাজার ১৫০ হেক্টর এবং ঘোড়াঘাট উপজেলায় ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হবে।
কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় চলতি আমন মৌসুমে রোপা আমন চাষ সফল করতে ১০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। গত মৌসুমে জেলায় বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, জেলায় এবার বোরো থেকে ৭ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে। জেলায় বোরো ধান কাটা ও মাড়াই ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কৃষকরা এখন তাদের জমিতে রোপা আমন চাষের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। চলতি জুলাই মাসের প্রথম থেকেই জেলায় আগাম জাতের আমন ধান রোপণ কার্যক্রম শুরু করেছেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগ আরও জানায়, চলতি আমন মৌসুমে বাম্পার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ জন্য বিএডিসি পর্যাপ্ত পরিমাণ রাসায়নিক সার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আগাম মজুত রেখেছে। জেলার তালিকাভুক্ত সার ডিলারদের মধ্যে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার সরবরাহ করা হয়েছে। প্রত্যেক ডিলারের অধীনে তিনজন করে উপ-ডিলার রয়েছেন।
কৃষকদের আমন চাষে রাসায়নিক সারের কোনো ধরনের ঘাটতি না হয়, সে জন্য বাজারে সারের অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
