ঈশ্বরগঞ্জে ফায়ার লাইসেন্সের নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৯:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার রামপ্রসাদ পালের বিরুদ্ধে ফায়ার লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের কাছ থেকে ২৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজেই টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে এটিকে ‘ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের একটি ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নিখিল চন্দ্র বিশ্বশর্মার প্রতিষ্ঠানের ফায়ার লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন স্টেশন অফিসার রামপ্রসাদ পাল। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে তিনি ২৩ হাজার টাকা নগদ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী নিখিল চন্দ্র বিশ্বশর্মা বলেন, “আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ফায়ার লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে আমি ২৩ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হই।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী ফায়ার লাইসেন্সের ফি নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। কোনো কর্মকর্তা সরাসরি নগদ অর্থ গ্রহণ করতে পারেন না। ফলে এভাবে নগদ অর্থ গ্রহণ সরকারি বিধিবিধানের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দী (পিএফএম) বলেন, “নগদ অর্থ নেওয়ার কোনো বিধান নেই। এটি একটি গুরুতর অনিয়ম। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেশন অফিসার রামপ্রসাদ পাল বলেন, “টাকা নেওয়াটা আমার ভুল হয়েছে।” তবে তিনি কেন সরকারি নিয়মের বাইরে নগদ অর্থ নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
