এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: মৃত্যুদণ্ড ১, তিনজনের যাবজ্জীবন
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৯:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ
সিলেট প্রতিনিধি

দেশজুড়ে আলোচিত সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার সকল আসামির উপস্থিতিতে এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
সকাল ১১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে রায় পাঠ শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল এবং মাহফুজুর রহমানকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। আসামিরা সবাই টিলাগড়কেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন বলেন, “আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণে আমরা সক্ষম হয়েছি। আদালত একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।”
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষ্য দেয়নি এবং ভুক্তভোগীও তাদের শনাক্ত করেননি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।”
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। ওইদিন এক নবদম্পতি এমসি কলেজ এলাকায় বেড়াতে গেলে কয়েকজন যুবক তাদের প্রাইভেটকারসহ ছাত্রাবাস এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে দম্পতির কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাদের গাড়ি আটকে রাখারও অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে গাড়ি আটকে রেখে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়। পরে দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর গত বছরের মে মাসে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের শিক্ষক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।
