তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ২০:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

  লালমনিরহাট প্রতিনিধি

ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বেড়ে বিপদসীমা অতিক্রম করায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিস্তা চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। পানি নিয়ন্ত্রণে খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট। ফের বন্যার আতঙ্কে দিন কাটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা থেকে নদীর পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। তবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৬টায় পানি কিছুটা কমে বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়ে যায়। পরে একই পয়েন্টে দুপুর ১২টায় পানি আরও কমে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে এবং বিকেল ৩টায় ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।

এদিকে তিস্তার পানি বাড়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী ও সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরের বাদামক্ষেত, ধানের বীজতলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

জানা গেছে, নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং গ্রামীণ সড়কে পানি উঠতে শুরু করেছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিস্তাপাড়ের কৃষকরা জানান, তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আমন ধানের বীজতলার চারাগুলো পানির নিচে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানির লেভেল পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে এবং মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বিপদসীমার ওপরেই থাকে। তবে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় পানি কমে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বয়ে যায়। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহ. রশিদুল হক প্রধান জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।