
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের নির্মাণ যন্ত্রপাতি লুটের ঘটনায় জড়িত ১৪ সদস্যের একটি ডাকাত চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর তেজগাঁও, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই দফায় এসব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ১০ জনকে আটক করা হয়। এর আগে গত ১৪ জুলাই আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তাররা হলেন শাহ আলম (২৩), রনি শিকদার (৩৪), মেহেদী হাসান (৩৮), মনোরঞ্জন দাস (২৭), আল আমিন সানা (১৯), অলোকেশ মণ্ডল (৩৫), সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪), অলিউর রহমান (২৪), জামাল (৪০), মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬), মাইন উদ্দিন (৪৫), ছোটন (৩০), রিয়াজুল ইসলাম (২৬) ও আবুল খায়ের (৪০)। তাদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার তেজগাঁও ও বাড্ডা এলাকায় বসবাস করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই রাতে গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকায় ঊষা এগ্রো লিমিটেডের ভাড়া নেওয়া জায়গায় অবস্থিত ‘দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’ প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ ডাকাত দলটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আটজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে রাখে এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে সেখানে তাণ্ডব চালায়।
একপর্যায়ে তারা প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ভারী নির্মাণ যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল দুটি ট্রাকে করে নিয়ে যায়।
লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক ক্যাবল, রড কাটার মেশিন, পাইলিং সরঞ্জাম, লোহার পুলি, চায়না ইঞ্জিন, ৩০ হর্সপাওয়ারের মোটর, ওয়েল্ডিং মেশিন, ফুয়েল পাম্প, লিফটিং হেড, গালগাট্টা পুলি, ট্রেমি হেডসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ।
ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে গজারিয়া থানা পুলিশ। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও ১০ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই দফায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।