নাতনির মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে ঝরল নানা-নানি ও চালকের প্রাণ
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ২১:৪১ | অনলাইন সংস্করণ
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ জনে দাঁড়িয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া নাতনির মরদেহ নিয়ে পাবনার বাড়িতে ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মৃত নাতনির নানা, নানি এবং অ্যাম্বুলেন্সের চালক। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের ছলিম প্রামানিক (৭০), তার স্ত্রী বুলু খাতুন (৫৭) এবং পাবনা পৌর এলাকার উত্তর শালগাড়ী গ্রামের জামাল শেখের ছেলে অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ (৩০)।
গুরুতর আহতরা হলেন, ছলিম প্রামানিকের মেয়ে নাজনিন খাতুন (৪০), নাতি রিয়াদ সরদার (১৭) এবং একই গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে নাফিজ (৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কেয়া খাতুন নামের এক শিশুর মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে পাবনার সাঁথিয়ার নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন পরিবারের সদস্যরা। অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের সড়াডাঙ্গী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালক রাজ শেখ ও নানি বুলু খাতুন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় গুরুতর আহত হন ছলিম প্রামানিকসহ আরও চারজন।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে রাজশাহীতে নেওয়ার পথে মারা যান নানা ছলিম প্রামানিকও।
পাবনার মাধপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ঘাতক বাস ও দুর্ঘটনাকবলিত অ্যাম্বুলেন্সটি জব্দ করা হয়েছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
নাতনির মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে একই পরিবারের নানা-নানির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে মাহমুদপুর গ্রামসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
