রংপুর নগরীতে জরাজীর্ণ ২২ সেতু-কালভার্ট, দ্রুত সংস্কারের দাবি

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ২০:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) বিভিন্ন ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে অন্তত ২২টি সেতু ও কালভার্ট। কোথাও ঢালাই খসে বেরিয়ে এসেছে লোহার রড, কোথাও ভেঙে গেছে রেলিং, আবার কোথাও সামান্য যানবাহন উঠলেই কেঁপে ওঠে পুরো সেতু।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এসব সেতু ও কালভার্ট দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে কোনো সময় এসব সেতু ও কালভার্ট ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত এগুলো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজম আলী বলেন, নগরীর বৈরাগীপাড়া, সেনপাড়া, তাঁতীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মোট ২২টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

রসিক প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২৮ জুন রংপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০৫ দশমিক ৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরীতে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। ৩৩টি ওয়ার্ডের নতুন ও পুরাতন মিলিয়ে সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৬৫৪ দশমিক ১৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে পাকা রাস্তা ১ হাজার ২২১ দশমিক ৯২ কিলোমিটার, আরসিসি রাস্তা ৮১ কিলোমিটার এবং কাঁচা রাস্তা রয়েছে ৩৫১ দশমিক ২২ কিলোমিটার। শ্যামাসুন্দরী, কেডি, চিকলী, নাছনিয়া, কুকরুল, ঘাঘট ও খোখসাসহ বিভিন্ন খাল ও নদ-নদী ঘিরে এই নগরীতে রয়েছে ১৮২টি সেতু এবং ১ হাজার ১৮৪টি কালভার্ট। এছাড়া নর্দমার দৈর্ঘ্য ৪৪১ দশমিক ১৮ কিলোমিটার।

সম্প্রতি বৈরাগীপাড়া, নূরপুর, তাঁতীপাড়া ও মুলাটোলা এলাকা ঘুরে সেতু ও কালভার্টগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখা গেছে।

সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বৈরাগীপাড়া-নূরপুর সংযোগ সেতু। সেতুটির ওপর ও নিচের কংক্রিটের অংশ ভেঙে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। পিলারগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক দশক ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও প্রতিদিন শত শত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান ও পিকআপ এই সেতু ব্যবহার করছে।

বৈরাগীপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া বলেন, “বহুবার সিটি করপোরেশনে লিখিত আবেদন করা হলেও শুধু আশ্বাস মিলেছে, কাজ হয়নি। সময়ের সঙ্গে সেতুটির ঝুঁকি আরও বেড়েছে। দুই পাশের রেলিং ভেঙে গেছে এবং ছোট যানবাহন চলাচলের সময়ও সেতুটি কাঁপতে থাকে।”

একই এলাকার বাসিন্দা আকলিমা আক্তার বলেন, সংস্কারের পরিবর্তে পুরোনো সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন।

এলাকাবাসী জানান, এই সেতুর মাধ্যমে মহাদেবপুর, স্টেশন বাবুপাড়া, শাপলা চত্বর, লালবাগ ও জাহাজ কোম্পানিসহ বিভিন্ন এলাকায় সহজে যাতায়াত করা যায়। তাই এটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সেনপাড়া-মুলাটোলা সংযোগ সেতুতেও। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতুর রেলিংয়ের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে।

সেনপাড়ার বাসিন্দা নয়ন মিয়া বলেন, “বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই সেতুটি ধসে পড়তে পারে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।”

এদিকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তাঁতীপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ দুই বছর ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুটি দিয়ে চলাচল হলেও এখনও দুই পাশে রেলিং নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বিশেষ করে রাতের বেলায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারের কোনো তৎপরতা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কাজ শেষ করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

রসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজম আলী বলেন, নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ও কালভার্ট চিহ্নিত করে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।