সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ১৬:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থলবন্দরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। অন্যদিকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থলবন্দরের ওয়্যারহাউস ফাঁকা পড়ে আছে।
বন্দরে কোনো ভারতীয় ট্রাকের দেখা মেলেনি। অলস পড়ে আছে পাথর ভাঙার বেল্ট মেশিনগুলো। অধিকাংশ ডিপো পাথরশূন্য। ট্রাক টার্মিনালও খালি পড়ে আছে।
স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন গড়ে ১২০টির মতো ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করত। কিন্তু গত চার দিনে একটি ট্রাকও বাংলাদেশে আসেনি। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যে পাথর সরবরাহ করছেন, তা গুণগত মানের দিক থেকে অত্যন্ত নিম্নমানের।
এছাড়াও রিভার স্টোন বোল্ডারের পরিবর্তে ছোট পাথর দেওয়া হচ্ছে। এসব পাথর অটো ক্রাশ মেশিনে ভাঙলে আরও ছোট হয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক মাপ বজায় না থাকায় কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব পাথর কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে পাথরের দাম বৃদ্ধি করেছেন। এর আগে প্রতি টন রিভার স্টোনের মূল্য ছিল ১১ ডলার। যা বাংলাদেশে পৌঁছাতে মোট খরচ হতো ১ হাজার ২৮০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে সেই পাথরের দাম বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৫ ডলার করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে আনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬৭০ টাকা।
এছাড়াও ভারত থেকে যে পাথর আমদানি করা হয়, তা সরাসরি খনি থেকে ট্রাকে লোড করা হয়। ফলে পাথরের সঙ্গে মাটি ও বালির পরিমাণ বেশি থাকায় পাথর ভাঙার পর মান খারাপ হচ্ছে।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একতরফাভাবে দাম বৃদ্ধি ও নিম্নমানের পাথর সরবরাহের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা গত ১৮ জুলাই থেকে সোনাহাট স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন।
স্থলবন্দরের পাথর লোড-আনলোড শ্রমিক হাশেম আলী ও আছর উদ্দিন জানান, নিয়মিত কাজ না থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ফরিদুল ইসলাম নামের এক ট্রাকচালক জানান, বন্দরে ভারত থেকে পাথর না আসায় তাদের আয়-রোজগার কমে গেছে। পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে।
স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট (ব্যবসায়ী) শুক্কুর আলী ও নুরুল ইসলাম জানান, তারা প্রতিদিন গড়ে ১৫ ট্রাক পাথর দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাতেন। কিন্তু বন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় গত পাঁচ দিনে কোনো ট্রাক বাইরে পাঠাতে পারেননি।
সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মাসুম বলেন, ভারতের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে যে পাথর সরবরাহ করছেন তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এই পাথর দিয়ে কাজের মান খারাপ হওয়ায় কোনো ঠিকাদার পাথর কিনতে চাচ্ছেন না।
স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, ভারত থেকে চাহিদামতো পাথর না পাওয়া এবং পাথরের মান খারাপ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই সাময়িকভাবে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।
সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক বলেন, দুই দেশের আমদানি ও রফতানিকারক ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
