ঈশ্বরদীতে স্মার্ট কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করছে কৃষি বিভাগ
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৭:৫১ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

কৃষকদের জন্য সরকারি কৃষিসেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে ২য় পর্যায়ের ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড’ কার্যক্রমের আওতায় পাবনা কৃষি অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত পহেলা বৈশাখে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধনের পর প্রথমবারের মতো মাঠপর্যায়ে কৃষকদের তথ্য নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সারা দেশে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাবনা কৃষি অঞ্চলের আওতাধীন প্রতিটি উপজেলার একটি করে কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম ১৬ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে, যা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
এ কার্যক্রমের আওতায় ঈশ্বরদী উপজেলার আরামবাড়িয়া কৃষি ব্লকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গত ১৬ জুলাই থেকে অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে কৃষক স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলার আরামবাড়িয়া কৃষি ব্লকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম, মো. রওশন আলম, মো. মশিউর রহমান, মো. সুজন ইসলাম, মো. নয়ন খান ও মো. ইমরান খান সাগর।
উপজেলার আরামবাড়িয়া ব্লকের আওতাধীন গোপালপুর গ্রামের কৃষক মো. মাহাবুল প্রামাণিক বলেন, “এখন যদি আমাদের কৃষক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের অনেক উপকার হবে। কৃষক স্মার্ট কার্ড পাওয়ার পর আমরা কৃষি উপকরণ সহায়তা, সরকারি প্রণোদনা ও ঋণ সুবিধাসহ কৃষি-সংক্রান্ত সব সেবা অত্যন্ত দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে গ্রহণ করতে পারব।”
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ কার্যক্রমে কৃষকের পরিচয়, জমি ও কৃষি কার্যক্রম-সম্পর্কিত তথ্য যাচাই করে ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই পর্যায়ক্রমে কৃষক স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন কৃষি প্রণোদনা, সরকারি সহায়তা ও অন্যান্য কৃষিসেবা দ্রুত ও সহজভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। সময়মতো কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য আগ্রহী কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কৃষক স্মার্ট কার্ডের তথ্য যথাসময়ে নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার জন্য তদারকি করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রহল্লাদ কুমার কুন্ড এবং উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা (উদ্যান) মো. একলাছুর রহমান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, “সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো প্রকৃত কৃষকদের একটি নির্ভুল ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিত করা।” তার মতে, কৃষক স্মার্ট কার্ড কার্যক্রম দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কৃষকবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে কৃষক স্মার্ট কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
