হোসেনপুরে সবজির বাজারে আগুন, কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকার ঘরে

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১৮:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

গেলো এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকায়। অন্যদিকে ৭০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। লাগামহীন এ মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার হোসেনপুর, পুমদী, গোবিন্দপুর, সিদলা, রামপুর, সাহেবেরচরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।

সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ভালো মানের গোল বেগুন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে কেজিপ্রতি ১৮০-২০০ টাকায় পৌঁছেছে। লম্বা জাতের বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১৩০ টাকায়। মুলার দাম ৫০-৬০ টাকা কেজি।

ঝিঙা, ধুন্দল ও শসা কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়স, পটল ও কাকরোল। ৮০ টাকার নিচে রয়েছে শুধু পেঁপে, যার দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা। প্রতি পিস জালি কুমড়া ৮০-১০০ টাকা এবং লাউ ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া বরবটি কেজিপ্রতি ১০০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা এবং কচুমুখী ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচেরও। বর্তমানে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকায়। পাইকারি বাজারে পাঁচ কেজির এক পাল্লা কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার টাকায়।

বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, সবজির এমন নাগালের বাইরে চলে যাওয়া দামে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

হোসেনপুর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা কৃষক আলামিন বলেন, “বেগুনের দাম শুনে রীতিমতো আকাশ থেকে পড়লাম। এক সপ্তাহে বেগুনের দাম কেজিতে ৭০ টাকা কী করে বাড়ে! বেগুন না কিনে পেঁপে কিনে বাসায় যাচ্ছি।”

আরেক ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “সাধারণত এক কেজির নিচে কোনো সবজি কেনা হয় না। আজ তিন ধরনের সবজি আধা কেজি করে কিনে নিয়ে যাচ্ছি। সবজির দাম শুনে মানতেই পারছি না। গত এক বছরের মধ্যে এবারই সবজির দাম সবচেয়ে বেশি।”

বিক্রেতারা জানান, কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে বিভিন্ন এলাকার সবজির খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে অনেক ক্রেতা সবজি না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ আধা কেজি বা ২৫০ গ্রাম করে কিনছেন। এতে বিক্রেতাদেরও মুনাফা কমে গেছে।

হোসেনপুর কাওনা বাজার ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবার ভোরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় সব ধরনের সবজির দামই ছিল বাড়তি। মৌসুমের এ সময়ে অতিবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় সবজির দাম বেড়েছে বলে দাবি করেন বিক্রেতারা।

গোবিন্দপুর বাজারের সবজি বিক্রেতা হুমায়ুন কবির জানান, পাল্লাপ্রতি সবজির দাম ৮০-১৩০ টাকা বেড়েছে। ফলে প্রতি কেজি সবজির খরচও বেড়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং বৃষ্টি কমে গেলে সবজির দাম আবার কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শুধু সবজিই নয়, বেড়েছে পেঁয়াজের দামও। গত সপ্তাহে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। পাইকারি বাজারে প্রতি পাল্লা পেঁয়াজের দাম ২৪০-২৫০ টাকা।

অন্যদিকে বাজারে প্রায় সব ধরনের মাছের দামও বেড়েছে। কেজিপ্রতি মাছের দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ২০০ টাকা। কাঁচকি মাছ, যা গত সপ্তাহে ৪০০ টাকা ছিল, এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। চাপিলা মাছ ৪০০-৪৫০ টাকা, পোয়া মাছ আকারভেদে ৫০০-৫৬০ টাকা এবং শিং-মাগুর ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বড় মাছের মধ্যে রুই ৪০০-৪৫০ টাকা, কাতল ৪২০-৪৮০ টাকা, কালিবাউশ ৩৯০-৪৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২২০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ টাকা এবং নদীর পাঙাশ ও বোয়াল ৭০০-১,০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় ইলিশের দামও বেড়েছে। এক কেজির নিচে মাঝারি আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১,৫০০ টাকায়, ছোট আকারের ইলিশ ১,০০০-১,৩০০ টাকায় এবং এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম ২,০০০-২,২০০ টাকা পর্যন্ত।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবজির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বাজারের অন্যান্য পণ্যের ওপরও। তারা বাজার মনিটরিং জোরদার, সিন্ডিকেটের কারসাজি রোধ এবং পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।