ভালো দাম ও ফলনে দিনাজপুরে বাড়ছে ড্রাগনের আবাদ

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

  সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

উত্তরের জেলা দিনাজপুরে দিন দিন বাড়ছে বিদেশি ফল ড্রাগনের আবাদ। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এবং কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ায় এ ফলের চাষে ঝুঁকছেন তারা। পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কারণে ড্রাগন ফলের চাহিদাও বাড়ছে। ফলে বাগান মালিক ও নতুন কৃষি উদ্যোক্তাদের কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে স্থানীয় কৃষি অফিস।

কৃষিনির্ভর জেলা দিনাজপুরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফলের বাগান রয়েছে। এর মধ্যে কৃষকদের কাছে বিদেশি ফল ড্রাগন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জেলায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। ড্রাগন ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার, ভিটামিন সি এবং ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ অনেক বেশি। পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কারণে ড্রাগনকে ‘সুপার ফুড’ বলা হয়।

বর্তমানে বাজারে চাষিরা প্রতি কেজি ড্রাগন ফল প্রায় ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ভালো দাম ও ফলন পাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এ ফলের আবাদ। অনেক কৃষক আম ও লিচুর বাগানে সাথি ফসল হিসেবে ড্রাগন চাষ করে বাড়তি মুনাফা অর্জন করছেন। অন্যান্য ফলের তুলনায় সার ও পরিচর্যার ঝামেলা কম এবং কীটনাশকের খরচও নেই বলে স্থানীয় চাষিদের দাবি। ফলে ড্রাগন চাষকে তারা লাভজনক হিসেবে দেখছেন।

বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন বাগান গড়ে ওঠায় এ অঞ্চলে স্থানীয় কৃষি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘ড্রাগন গাছ থেকে বছরে ৫ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়। সে কারণেই কৃষকরা এ ফলের চাষে বেশ উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। তাই নতুন চাষি ও কৃষি উদ্যোক্তাদের সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি অফিস।’

উল্লেখ্য, দিনাজপুর জেলায় বর্তমানে মোট ২৮ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে প্রতি বছর প্রায় ২১৯ মেট্রিক টন ড্রাগন উৎপাদিত হয়।