ট্রেনের কাপলিং ছিঁড়ে বিপর্যয়, রাজবাড়ীতে প্রাণ গেল দুই যাত্রীর
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৬:১৭ | অনলাইন সংস্করণ
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া চারটি ওয়াগনের ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাস, মাহিন্দ্রা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ভয়াবহ সংঘর্ষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের খানখানাপুর রেলগেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী। তারা মাহিন্দ্রা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের যাত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী হিমু খান জানান, তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে রেলগেটে পৌঁছানোর পর গেটম্যান ব্যারিয়ার নামিয়ে দেন। তার পেছনে আনন্দ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসসহ কয়েকটি যানবাহন অপেক্ষা করছিল। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দিলে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে রেললাইন পার হয়ে কিছুটা সামনে যান।
কয়েক সেকেন্ড পর বিকট শব্দ শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখেন, বাসটি রেললাইন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা ওয়াগনগুলোর সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। একই সঙ্গে একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকও ওই বিচ্ছিন্ন ওয়াগনের আঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে ওয়াগনগুলো কিছু দূরে গিয়ে থেমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন শেখ, অসিত ও সাত্তার বিশ্বাস জানান, ফরিদপুর থেকে প্রায় ৩০টি ওয়াগন নিয়ে রাজবাড়ীগামী একটি তেলবাহী ট্রেন খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করার সময় হঠাৎ পেছনের চারটি ওয়াগনের সংযোগকারী কাপলিং (চেইন) ছিঁড়ে যায়। ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেট পার হয়ে যাওয়ার পর গেটম্যান রেললাইন ফাঁকা মনে করে ব্যারিয়ার তুলে দেন।
ঠিক সেই সময় একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা ওয়াগনগুলো সজোরে সেগুলোকে ধাক্কা দেয়।
তারা আরও জানান, সংঘর্ষে মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বাসটি ধাক্কা খেয়ে রেললাইনের পাশের খাদের কিনারে চলে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর কাজে অংশ নেন। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।
গুরুতর আহতদের রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মালেক শেখ ও মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর মৃত্যু হয়।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর রাজবাড়ী রেলওয়ে অঞ্চলের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
