‘গ্রামীণ নারীদের হস্তশিল্প রপ্তানিতে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা থাকবে’ 

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ২০:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গ্রামীণ অঞ্চলের নারীদের তৈরি হস্তশিল্পের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে সরকার সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর আওতায় গঠিত বিভিন্ন সমিতির সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন। তাদের এই অগ্রযাত্রা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন, সুফলভোগীদের মাঝে গাছের চারা, ক্ষুদ্র ও উদ্যোক্তা ঋণ এবং কিশোরীদের প্রণোদনার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নারী শিক্ষার ওপর সরকারের বিশেষ গুরুত্বারোপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নারীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর ফলে নারীরা স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন।

বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এতে তারা নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিজাত পণ্যের সুষ্ঠু সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ অঞ্চলে কৃষি সংরক্ষণাগার (এগ্রিকালচারাল হাব) নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের উৎপাদিত পণ্যকে রপ্তানিমুখী করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে এ অঞ্চলের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড এবং খাল খননের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী সভাপতির বক্তব্যে বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। পল্লী অঞ্চলের বেকার নারী ও পুরুষদের বিভিন্ন কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিআরডিবি-এর প্রকল্পসমূহের সুফল তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম তারেক, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল, সংরক্ষিত মহিলা ৩৩৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. সামসুজ্জামান সামু, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বিআরডিবি-এর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। এরপর রংপুর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী পল্লীমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সুফলভোগীদের মাঝে গাছের চারা, ক্ষুদ্র ও উদ্যোক্তা ঋণ এবং কিশোরীদের প্রণোদনার চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী পল্লীমেলায় ২৯টি স্টল স্থান পেয়েছে। এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে।