ভারতীয় ট্রাক চালক অপহরণ ও ছিনতাই: তিনজনকে যাবজ্জীবন

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ২০:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

  লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ভারতীয় এক ট্রাক চালককে অপহরণ, জখম ও টাকা ছিনতাইয়ের মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় (অপহরণ) পৃথকভাবে তাদের প্রত্যেককে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুটি সাজা একই সঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস. এম. শফিকুল ইসলাম এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ইসফারমারা (সোনারভিটা) এলাকার মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. সবুজ মিয়া, একই এলাকার হাদীসপাড়ার মোহাম্মদ আলী ওরফে বুলুর ছেলে মো. রমজান আলী এবং ভাটিয়াটারী এলাকার মো. শামছুল হক ওরফে সামছুর রহমানের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে তানজিদ।

মামলার বিবরণ ও এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট দুপুরে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পাথর নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাক চালক লক্ষ্মীনন্দর সিং (৩৭)-এর ট্রাকটি বুড়িমারী রোডে আটকে যায়। ওই দিন রাত অনুমান ১টার দিকে আসামিরা পে-লোডার/ক্রেন দিয়ে ট্রাক উদ্ধারের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে মোটরসাইকেলে করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২২ আগস্ট রাত ৩টার দিকে পাটগ্রামের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভোটবাড়ী এলাকায় নিয়ে চালক লক্ষ্মীনন্দর সিংকে ধারালো চাকু দিয়ে মারাত্মক জখম করে তার কাছে থাকা ৮ হাজার ভারতীয় রুপি ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে টহল পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। উক্ত ঘটনায় শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৬৫ (অপহরণ) ও ৩৯৪ (দস্যুতা ও আঘাত) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় প্রদান করেন। আসামি সবুজ মিয়া শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. সামসুল আলম মিলন বলেন, বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে দুপুরে তিন আসামির বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। ভারতীয় নাগরিককে অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনা নিন্দনীয়। এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।