সাতক্ষীরা সীমান্তে উদ্ধার ৩২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ২২:১৮ | অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার করা প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাদক ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।
বিজিবি জানায়, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১১ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ সীমান্তে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪১ জনকে আটক করা হয়। একই সময়ে ৫১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৭ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।
ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৪০৬ বোতল বিভিন্ন ধরনের মদ, ১৫ হাজার ৭৮ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ১৮ হাজার ৬৫৪টি ইয়াবা, ৭৫ হাজার ৭৬৬ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি, ৩ দশমিক ৮১ কেজি গাঁজা, ২১ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৭টি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, এক হাজার ৪৭০ পাতা সুখি বড়ি, ১৫ হাজার ৭৪৬টি মাদকজাতীয় ট্যাবলেট, ১ কেজি হেরোইন, ৮ বোতল (১০০ মিলি) ও ৬ বোতল (৫০ মিলি) এলএসডি এবং ২ দশমিক ৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ, পিএসসি স্বাগত বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিটি সদস্য দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের সদস্যদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ্ মোঃ আশরাফুল আলম, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান জাহান কনকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার করা মাদক ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
