আখের রসের ব্যবসায় স্বাবলম্বী হচ্ছেন সিরাজগঞ্জের নিম্নআয়ের মানুষ

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

  এস.এম. তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ জেলা ও উপজেলা শহরসহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গ্রীষ্মকালীন আখের রস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন গরিব ও অসহায় পরিবারের অনেক মানুষ। স্বল্প পুঁজিতে শুরু করা এ ব্যবসায় ইতোমধ্যেই অনেক পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরেছে। অনেকেই এ আয়ের মাধ্যমে সন্তানদের স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প পুঁজিতে জেলার বিভিন্ন স্থান এবং উপজেলা শহরসহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আখের রস বিক্রি করছেন নিম্নআয়ের মানুষ। বিশেষ করে কড্ডার মোড়, নলকা মোড়, হাটিকুমরুল গোলচত্বর, উল্লাপাড়া বাসস্ট্যান্ড, এনায়েতপুর কেজির মোড় এবং সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় আখের রসের বিক্রি বেশি হয়।

জেলার উল্লাপাড়া, সলঙ্গা ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আখ সংগ্রহ করা হয়। পরে আখ পরিষ্কার করে ভ্যানে স্থাপিত মাড়াই মেশিনে রস বের করা হয়। প্রতি গ্লাস আখের রস ২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে এ রসের চাহিদা আরও বেড়ে যায়।

আখের রস বিক্রেতারা জানান, একটি আখ মাড়াই মেশিন কিনতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। মেশিনটি ভ্যানের ওপর স্থাপন করে আখ মাড়াই করে রস প্রস্তুত করা হয়। গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন জাতের আখের মধ্যে বন ও ডোপা বন জাতের আখের রস বেশি মিষ্টি হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। বিশেষ করে মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রীদের কাছে এ রসের চাহিদা উল্লেখযোগ্য।

তবে শীতকালে আখের রসের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেকেই সাময়িকভাবে অন্য পেশায় যুক্ত হন। আবার গ্রীষ্ম শুরু হলে তারা পুনরায় আখের রস বিক্রি শুরু করেন। এ স্বল্প পুঁজির ব্যবসা অনেক পরিবারের জীবনে স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে। অনেকেই এ আয়ের মাধ্যমে সন্তানদের স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করাতে সক্ষম হচ্ছেন।

এমনই একটি চিত্র দেখা গেছে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড় ফ্লাইওভারের নিচে। সেখানে সলঙ্গা থানার রতনকান্দি গ্রামের আবু সাঈদ (৫৫) ও তাঁর ছেলে, স্থানীয় ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ওমর ফারুক আখের রস বিক্রি করছেন।

ওমর ফারুক বলেন, “বাবার কোনো জমিজমা নেই। আগে দিনমজুরি করে সংসার চলত। পাশের গ্রামের কয়েকজনকে আখের রস বিক্রি করতে দেখে বাবাও প্রায় চার বছর আগে এ ব্যবসা শুরু করেন। এখন বাবা-ছেলে আলাদা দুটি স্থানে আখের রস বিক্রি করি। প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার টাকার রস বিক্রি হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দেড় হাজার টাকা লাভ থাকে। এই আয়ে আমাদের সংসার চলে। পাশাপাশি আমরা তিন ভাই-বোন স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করছি। এবার আমি এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ ভালো ফলাফল হবে। সবার কাছে দোয়া চাই।”