ঈশ্বরগঞ্জে পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও অনুদান

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

  ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

একসময় পেশাগত দক্ষতার অভাব, আধুনিক কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। এবার সেই বাস্তবতা বদলাতে উদ্যোগ নিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। ১০ দিনের প্রশিক্ষণে নতুন দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি পেশা সম্প্রসারণের জন্য এককালীন ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়েছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ৩০ জন প্রান্তিক পেশাজীবী।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এই উদ্যোগ তাদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী সফট স্কিল উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও সম্মানী ভাতা তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. হাসান কিবরিয়া।

এ সময় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রত্যেককে পেশাগত উন্নয়নের জন্য জনপ্রতি ১৮ হাজার টাকা করে এককালীন অনুদান তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কুমার, মুচি, নাপিত এবং বাঁশ-বেত পণ্য প্রস্তুতকারীসহ বিভিন্ন প্রান্তিক পেশার ৩০ জন সদস্য এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন। ১০ দিনের প্রশিক্ষণে সফট স্কিল উন্নয়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তা মনোভাব, আধুনিক কর্মপদ্ধতি, গ্রাহকসেবা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার নানা দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের দুইজন কর্মকর্তা মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. হাসান কিবরিয়া বলেন, প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক কর্মপদ্ধতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীদের আত্মনির্ভরশীল হতে এবং জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।