চুয়াডাঙ্গার আদালত চত্বরে ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২১:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

আইনজীবী না হয়েও মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্বরে ধরা পড়লেন আবু সালেহ মাহমুদ ওরফে সাগর আহমেদ নামের এক প্রতারক।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালত চত্বর এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।

আদালত এলাকায় তার বুকে ঝুলানো একটি কাগজে লেখা ছিল— “আমি টাউট”। বিষয়টি মুহূর্তেই আদালত চত্বরে উপস্থিত আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালত এলাকায় প্রকাশ্যে এ ধরনের স্বীকারোক্তিমূলক লেখা বুকে ঝুলিয়ে রাখা নজিরবিহীন ঘটনা। এতে আদালত প্রাঙ্গণে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকে বিষয়টি মোবাইলে ধারণ করতেও দেখা যায়।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন— আবু সালেহ মাহমুদ ওরফে সাগর আহমেদ, কিশোরগঞ্জ জেলার সোনাপুর গ্রামের মো. চাঁন মিয়ার ছেলে এবং দামুড়হুদা উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের মৃত ফইজুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মুকবুল হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের মৃত ফইজুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মুকবুল হোসেনের সঙ্গে ঢাকা বার কাউন্সিলের অ্যাডভোকেট হিসেবে পরিচয় হয় ভুয়া আইনজীবী আবু সালেহ মাহমুদ ওরফে সাগর আহমেদের। দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে মামলাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মামলার অগ্রগতি, জামিন কিংবা রায় প্রভাবিত করার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় অর্থ নিতেন।

মঙ্গলবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের চাঁন আলীর ছেলে মোহাম্মদ জামাত আলীর কাছ থেকে ফৌজদারি মামলায় আদালত থেকে রায় পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। পরে চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির কাছে বিচার দিলে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো বৈধ সনদ বা আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধনের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

দামুড়হুদার কলাবাড়ি গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মিজানুর রহমান নামে এক ভুক্তভোগী জানান, জমিজমা সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলায় তার কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

একই অভিযোগ তুলে আলমডাঙ্গা উপজেলার এরশাদপুর গ্রামের মৃত জুমার আলীর ছেলে মোহাম্মদ বিপ্লব আলী বলেন, নিজেকে ঢাকা বার কাউন্সিলের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।

আইনজীবীরা বলেন, আদালত চত্বরকে টাউটমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। এতে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন। ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন, সে উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদালত এলাকায় টাউট ও দালালদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবেই এমন ব্যবস্থা বলে জানিয়েছেন তারা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সারোয়ার বাবু হোসেন বলেন, আটককৃত সাগর আহমেদ নিজেকে ঢাকা বার কাউন্সিলের আইনজীবী বলে পরিচয় দিতেন, অথচ তার আইনবিষয়ক কোনো সনদ নেই। নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে মামলা পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “আইনজীবী সমিতির সদস্যরা দুজনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”