৪৭৫ কোটি টাকার মহাসড়কে ফাটল-গর্ত, দুর্ভোগে যাত্রীরা

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২০ | অনলাইন সংস্করণ

  ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

মাত্র দুই বছর আগে ৪৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মিত পাবনার ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহীর বানেশ্বর পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক মহাসড়কটি বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও গর্তে ভরে গেছে। সংস্কারকাজের মেয়াদ দুই বছর না পেরোতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে যাওয়া, কার্পেটিং উঠে যাওয়া এবং পাথর খসে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা।

আঞ্চলিক মহাসড়কের এমন বেহাল দশা দেখে বিস্মিত সড়ক ব্যবহারকারী পথচারী ও যানবাহন চালকেরাও।

সড়ক ও জনপদ (সওজ) অধিদপ্তরের পাবনা ও রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর বানেশ্বর থেকে পাবনার ঈশ্বরদীর আলহাজ মোড় পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজ ২০২৪ সালের জুন মাসে শেষ হয়। ৪৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ করেন সাতটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এর মধ্যে ঈশ্বরদী অংশের, অর্থাৎ আড়ামবাড়িয়া থেকে আলহাজ মোড় পর্যন্ত ৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়কের কাজ করে ডন মোজাহার নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ কাজের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫৭ কোটি টাকার বিলও পরিশোধ করা হয়েছে।

তবে সংস্কারের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ঈশ্বরদী অংশের সড়কের দুই পাশের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া সড়ক দেবে গিয়ে একাধিক স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে ঈশ্বরদীর আলহাজ মোড় থেকে রেলওয়ে গেট হয়ে আড়ামবাড়িয়া বাজারের শেষ সীমানা পর্যন্ত ঘুরে অন্তত ৩৫টি স্থানে ফাটল ও গর্ত দেখা গেছে।

আড়ামবাড়িয়া বাজার এলাকায় ঢালাইয়ের শুরু ও শেষাংশ মিলিয়ে প্রায় ১৫টি স্থানে ঢালাইয়ের পাথর উঠে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের বিটুমিন সরে গিয়ে রাস্তা উঁচু-নিচু হয়ে পড়েছে। এদিকে গার্লস স্কুল মোড় এলাকার প্রায় পুরো ঢালাই অংশজুড়েই গর্ত সৃষ্টি হয়ে সড়কটি জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। শহরের রেলগেট লেভেল ক্রসিংয়ের পশ্চিম পাশে একাধিক স্থানে বিটুমিন ও পাথর উঠে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চলমান বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে যান চলাচলে আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সদ্য নির্মিত সড়কে এমন খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ছোট-বড় যানবাহন ও পথচারীদের দুর্ভোগ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় পাবনা সড়ক ও জনপদ বিভাগ বিটুমিন, বালু ও ইট দিয়ে সড়কের গর্ত ভরাটের কাজ শুরু করেছে।

অভিযোগ উঠেছে, সড়কটি নির্মাণকালে সড়ক ও জনপদ বিভাগের যথাযথ তদারকি না থাকায় নির্মাণকাজের গুণগত মান খারাপ হয়েছে। ফলে দুই বছর না যেতেই সড়কের এমন বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে।

উপজেলার আড়ামবাড়িয়া বাজার এলাকার চা দোকানদার শাহীন বলেন, “সড়কটি সংস্কারের প্রথম দিকে কাজের মান খারাপ হতে দেখে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু সে সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা আমাদের বাধা দিলে আমরা সরে যেতে বাধ্য হই। এখন তার ফলাফল আমরা ভোগ করছি।”

রেলওয়ে গেট সংলগ্ন ব্যবসায়ী কলিম বলেন, “সড়কের কাজের মান ভালো না হওয়ায় সে সময় বেশ কয়েকবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।”

সড়ক ও জনপদ বিভাগ রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরীন ঝিনুক বলেন, “সড়কের বর্তমান অবস্থা না দেখে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে জলাবদ্ধতার কারণে এমন হতে পারে।”

সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে পাবনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, “নিয়মের বাইরে কিছু হয়েছে কি না, সেটা আমি বলতে পারছি না। কারণ এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর আমি এখানে যোগদান করেছি।”