দফায় দফায় বর্ষণেও সিরাজগঞ্জে পুরোদমে চলছে রোপা আমন চাষ

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২০:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

  এস, এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে মৌসুমি রোপা আমন ধান চাষ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এ চাষে জমিতে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তবে অনেক স্থানে দফায় দফায় বর্ষণে বীজতলা বিনষ্ট হয়েছে। এতে চারা সংকট ও মূল্য বৃদ্ধিতে কৃষকদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবার সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন করে জমিতে রোপণ শুরু হয়েছে।

প্রতি বছরের ন্যায় শস্যভান্ডারখ্যাত জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলাসহ সবকটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন জাতের রোপা আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। এসব ধানের মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান-৭১, ৭৫, ৪৯, ১০৩ এবং দেশীয় বিভিন্ন জাতের ধান। এ চাষে খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকেরা এ আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, গত মাসের মাঝামাঝি থেকে ট্রাক্টর দিয়ে জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়। সেই সঙ্গে জমিতে ধানের চারা রোপণও শুরু করা হয়েছে। তবে দফায় দফায় ভারী বর্ষণের মধ্যেও চাষাবাদ এগিয়ে চলছে। ভারী বর্ষণের কারণে অনেক কৃষকের বীজতলা বিনষ্ট হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে চারা সংকট ও এর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষ করে শস্যভান্ডারখ্যাত তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কামলা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানেও রোপা আমন চাষ শুরু হয়েছে।

এদিকে, এ চাষের জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বীজ বপন করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাট-বাজারে ১ পণ (৮০ তাড়) ধানের চারা সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জেরিন আহম্মেদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যেই রোপা আমন চাষ শুরু হয়েছে। টানা বর্ষণে অনেক স্থানে বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন চারা সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।

তিনি আরও বলেন, এ চাষে জেলায় প্রায় ১৫ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে এ চাষ শেষ হবে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।