মাদক ও মানবপাচার রোধে সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  কক্সবাজার অফিস

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ঠেকাতে সেনাবাহিনীর দুটি নতুন ক্যাম্প স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মাদক চোরাচালান ও মানবপাচারসহ সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত মূল হোতাদের তথ্যভিত্তিক তালিকা তৈরি করে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার হিল ডাউন সার্কিট হাউসে জেলা মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন-সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের মধ্যে গভীর পারস্পরিক যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফ ও উখিয়ার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এবং নৌপথ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে।

এসব সিন্ডিকেট নির্মূলে রামু পদাতিক ডিভিশনের জিওসির নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সকে কোনো ধরনের শিথিলতা না দেখিয়ে শীর্ষ মাদক কারবারি, মানবপাচারকারী ও অপরাধের মূল হোতাদের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই তালিকার ভিত্তিতে পরবর্তীতে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হবে। মাদক নির্মূলে মাদক পাচারের রুটগুলোতে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন এবং সাগরপথে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের টহল আরও জোরদার করা হবে।

পাশাপাশি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা হবে এবং ক্যাম্পের ভেতরে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, টেকনাফ ও উখিয়ার সব জেলে এবং নৌযানের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে জলপথে চোরাচালান সহজে শনাক্ত করা যায়। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিজস্ব পরীক্ষাগার (ল্যাবরেটরি), পৃথক হাজতখানা ও মালখানা নির্মাণে প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা অপরাধীদের জন্য পৃথক কারাগার নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা থেকে একটি বেসরকারি বিমানযোগে কক্সবাজারে পৌঁছে তিনি সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত জেলা মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন-সংক্রান্ত সভায় যোগ দেন। সভাটি প্রায় তিন ঘণ্টা পর শেষ হয়।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশীর চৌধুরী, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান, বিজিবি, র‍্যাব, এপিবিএন, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

এদিকে আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) কার্যালয় পরিদর্শন, কউকের ‘ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১’-এর উদ্বোধন এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে রাত ৮টায় তার ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।