দিনাজপুরের বিতর্কিত ডিপিইওর রংপুরে পুনঃপদায়ন, নানা অভিযোগ
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১৫ | অনলাইন সংস্করণ
দিনাজপুর প্রতিনিধি

পদ শূন্য হতে এখনো বাকি ১৮ দিন। অথচ তার আগেই পেয়ে গেছেন কাঙ্ক্ষিত পদে দ্বিতীয়বারের মতো পদায়ন। দিনাজপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিকের অভাবনীয় ও রহস্যময় বদলি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ফ্যাসিস সরকারের এক আমলা, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ডন হিসেবে খ্যাত এ এম শাহজাহান সিদ্দিক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে বর্তমান কর্মস্থল দিনাজপুর থেকে ঝাঁপটি মেরে লুকিয়ে থেকে স্মরণকালের দুর্নীতি ও অনিয়ম করে বীরদর্পে স্টেশন বদলানো রেওয়াজে পরিণত করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। অথচ দেশে মন্ত্রী থেকে সচিব পর্যন্ত অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
দুদক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ও দিনাজপুরে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে রংপুরে পছন্দসই পদে পুনরায় পদায়ন মেলায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও শিক্ষকবৃন্দ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এ এম শাহজাহান সিদ্দিক ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মরত থাকাকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন। দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার পাহাড়সম দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন, বিভাগীয় মামলা টাকার বিনিময়ে রফাদফা করা, শিক্ষক বদলি ও ডেপুটেশন বাণিজ্য, পিআরএল-পেনশন ফাইলে পার্সেন্টেজ, বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে লেনদেন, শিক্ষক হয়রানিসহ পাহাড়সম অভিযোগ।
রংপুর বিভাগীয় শহরে দশতলা বাড়ি, গাড়ি, কারমাইকেল কলেজ রোডে একাধিক ফ্ল্যাটসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ারও অভিযোগ রয়েছে উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
সাধারণত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অথবা গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তাকে ওএসডি অথবা সাসপেন্ড করা হয়। কিন্তু এ এম শাহজাহান সিদ্দিকের ক্ষেত্রে চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।
পদ খালি হওয়ার ১৮ দিন পূর্বে ৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন সরকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তার নিজ আবাস শহর রংপুরে (ইতিপূর্বে তিনি রংপুরে ডিপিইও ছিলেন) পদায়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এ আদেশটি ২৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে কার্যকর হবে।
অভিযোগ রয়েছে, শাহজাহান সিদ্দিক রংপুর বিভাগীয় শিক্ষা অফিস তথা রংপুর বিভাগ পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। এবং রংপুর বিভাগজুড়ে তার একটি সুসংগঠিত দুর্নীতির সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার এমন পদায়নের পেছনে মন্ত্রণালয়ে লুকিয়ে থাকা প্রভাবশালী একটি চক্রের হাত রয়েছে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকগণ মনে করেন। তারা অনতিবিলম্বে এই বিতর্কিত পদায়ন বাতিল করে এ এম শাহজাহান সিদ্দিকের যাবতীয় দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।
