ঠাকুরগাঁওয়ে আবু তাহেরের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ২০:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের শিংপাড়া গ্রামের আবু তাহের নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সেলিম রেজা সফি।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে এমনই চিত্র পাওয়া যায়। আবু তাহের (৬০) সালন্দর শিংপাড়া গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে।

সরেজমিনে জানা গেছে, আবু তাহের ছেলের চাকরির জন্য ২০১৮ সালে ব্যবসায়ী সেলিম রেজা সফির কাছে ৬ লাখ টাকা ধার নেন। পরে সেই ধার করা টাকার বিনিময়ে তাহের নিজ মালিকানাধীন জমি বিক্রয়ের প্রস্তাব দিলে সফি তা ক্রয় করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং রেজিস্ট্রি মূলে সাড়ে ১২ শতক জমি ক্রয় করেন।

সফি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে নিজের নামে নামজারি করে নেন। সেই সূত্র ধরে বসতবাড়ি স্থাপনের লক্ষ্যে মাটি ভরাট করেন। ২০২১ সালে সয়েল টেস্ট করান এবং পরবর্তীতে ব্যাংকে মর্টগেজ দিয়ে ঋণ গ্রহণ করেন।

সরেজমিনে আরও জানা গেছে, সম্প্রতি সফি তার নিজ মালিকানাধীন জমিতে প্রাচীর নির্মাণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এমন সময় আবু তাহেরের ছোট ভাই আবুল কালাম বাধা দেন এবং রাস্তা সংলগ্ন ১০৫ ফুটের মধ্যে অর্ধেক জমি দাবি করেন।

পরে বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন। সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, সফি জমি ক্রয়ের পর মাটি ভরাট ও সাইনবোর্ড স্থাপন করে ৮ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দখলে আছেন। দীর্ঘদিন পর আবুল কালামের দাবি যুক্তিসংগত ও আইনসম্মত নয়। আবুল কালাম অবৈধভাবে শান্তি ভঙ্গ করতে পারবেন না। আবু তাহের ও আবুল কালাম তাদের নিজেদের অংশ আনুপাতিক হারে অবশিষ্ট জমি থেকে বুঝিয়ে নেবেন।

স্থানীয়রা ও এলাকাবাসী জানায়, সফির বিরুদ্ধে আবুল কালাম যে মামলা দিয়েছেন তা সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এর সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সফি জমি ক্রয়ের পর মাটি ভরাট করেছেন, সাইনবোর্ড দিয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আইয়ুব আলী জানান, আবু তাহের এবং আবুল কালাম এতদিন হয়ে গেল কিছুই বলেননি, কিন্তু এখন এসে বলছেন। এর যৌক্তিকতা আছে বলে মনে হয় না। এগুলো হয়রানি ছাড়া কিছুই নয়।

আবু তাহের বলেন, মাটি ভরানোর সময় আমার ভাই নিষেধ করেছে। কাগজপত্র ঠিক আছে বলে স্বীকার করলেও কারও কথা মানতে নারাজ তিনি।

তাহেরের ছোট ভাই আবুল কালাম বলেন, ‘আমাদের ক্রয়কৃত জমি। আমাদের সমান সমান অংশ। আমি সফিকে আগেই নিষেধ করেছিলাম। সালিস আমার মনমতো হয়নি, সে জন্য মামলা করেছি।’

ক্রয়সূত্রে জমির মালিক সেলিম রেজা সফি বলেন, ‘আমি জমি ক্রয় করে খারিজ করে নিয়েছি। স্থাপনা তৈরির জন্য সয়েল টেস্ট করিয়েছি। মাটি ভরাট করে রেখেছিলাম এবং সাইনবোর্ড দিয়েছিলাম। এতদিন ধরে তারা কিছুই বলেনি। এখন এসে ঝামেলা করছে।’

সালন্দর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী বলেন, ‘সফি ম্যাপ করে জমি ক্রয় করেছে। আমরা বসে উভয় পক্ষের এ টু জেড শোনার পরে মনে হয়েছে সফি তার কাগজপত্র থেকে শুরু করে সব দিক থেকে সঠিক পথে আছে। কিন্তু তারা এটা কেন করছে, আমার বোধগম্য নয়।’