ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনায় ৩ জোনে কেসিসির ক্রাশ প্রোগ্রাম
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৯:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
সভায় বৃহস্পতিবার থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া ওয়ার্ডগুলোকে তিনটি জোনে ভাগ করে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১, ২, ৩, ৫, ১০, ১২, ১৫ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডকে জোন ‘এ’; ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডকে জোন ‘বি’ এবং ২১, ২২, ২৩, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডকে জোন ‘সি’ হিসেবে বিভক্ত করা হয়েছে।
ক্রাশ প্রোগ্রাম তদারকির জন্য জোন ‘এ’-তে সচিব, জোন ‘বি’-তে প্রধান প্রকৌশলী এবং জোন ‘সি’-তে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্রাশ প্রোগ্রামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
কেসিসি প্রশাসক বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের খুলনা সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজের সম্মুখে এবং সকাল সাড়ে ৯টায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ড অফিসের সম্মুখে উপস্থিত থেকে ক্রাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করবেন।
এছাড়া সভায় জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার, প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে মশক নিয়ন্ত্রণের ওষুধ স্প্রে ও ফগিং করা, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করা এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নিজ নিজ ওয়ার্ড এলাকার মশার প্রজনন স্থান চিহ্নিত ও ধ্বংসে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনো বাড়ি বা স্থাপনার সীমানার মধ্যে মশার প্রজনন স্থান বা লার্ভা পাওয়া গেলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কেসিসির ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়ির আঙিনাসহ বিদ্যমান ঝোপঝাড় ও জলাভূমি নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। বাড়ি বা স্থাপনার মধ্যে টায়ার, কৌটা, ডিমের খোসা, ডাবের খোল, ফুলের টব, বেসিনের নিচে, ফ্রিজের পাশে, এসির পাশে ও সানসেটে পানি জমে আছে কি না, সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্যও অনুরোধ করা হয়।
কারও শরীরে জ্বর অনুভূত হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ অথবা প্রয়োজনে কেসিসির প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সরকারি গাইডলাইন অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. মনিরুজ্জামান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস, শেখ মো. মাসুদ করিমসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শাখা প্রধান ও কনজারভেন্সি বিভাগের ওয়ার্ড সুপারভাইজাররা উপস্থিত ছিলেন।
