ময়লাবাহী ট্রাকচালককে মারধর, দুই বাজারের ময়লা অপসারণ বন্ধ
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪১ | অনলাইন সংস্করণ
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া ট্রাকচালককে মারধরের প্রতিবাদে শহরের তিতুমীর বাজার ও চকবাজার এলাকার ময়লা পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছেন পৌরসভার ময়লাবাহী ট্রাকের চালক ও শ্রমিকরা। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই বাজারের ময়লা অপসারণ না করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এতে বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল থেকে চকবাজার ও তিতুমীর বাজারসংলগ্ন ফলপট্টি, থানার মোড়, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামনের মোড়, ময়ড়া পট্টি ও আলীমুজ্জামান সেতুসংলগ্ন এলাকায় ময়লার স্তূপ জমতে শুরু করেছে। ফলে এসব এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শহরের চকবাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়েন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় পৌরসভার ময়লাবাহী ট্রাকের চালক সবুজ প্রামাণিক (২৮) মারধরের শিকার হন।
ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেই পৌরসভায় বসে ট্রাকচালক ও শ্রমিকরা হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তিতুমীর বাজার ও চকবাজার এলাকার ময়লা পরিবহন না করার সিদ্ধান্ত নেন।
ফরিদপুর পৌরসভার কনজারভেন্সি বিভাগের পরিদর্শক বিকাশ দত্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “চালক সবুজ মারধরের শিকার হওয়ার পর রাতে চালক ও শ্রমিকরা এ সিদ্ধান্ত নেন। আজ সকাল থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের বারবার বাজার এলাকার ময়লা নেওয়ার অনুরোধ করেছে। কিন্তু তারা সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।”
তিনি জানান, পৌরসভার তিন টন ধারণক্ষমতার একটি ময়লাবাহী ট্রাক প্রতিদিন ভোরে চারজন শ্রমিক নিয়ে দুই দফায় ওই পাঁচটি স্থান থেকে রাতের জমে থাকা ময়লা অপসারণ করে।
পৌর সূত্রে জানা যায়, হামলার ঘটনায় আহত ট্রাকচালক সবুজ প্রামাণিক বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এজাহারভুক্ত আসামিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। আশা করছি, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”
এদিকে ময়লা অপসারণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিষয়ে চকবাজার বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “সেবা বন্ধ করে দেওয়া মানে জনগণকে জিম্মি করা। ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ ব্যবস্থা নিক—এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে সেবাধর্মী একটি প্রতিষ্ঠান সেবা বন্ধ করে দেবে, এটি কাম্য নয়।”
পৌরসভা সূত্র আরও জানায়, গত রোববার (৯ আগস্ট) থেকে ফরিদপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু হয়। মঙ্গলবার ছিল এ অভিযানের তৃতীয় দিন। এদিন বিকেলে চকবাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়েন অভিযানে অংশ নেওয়া পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময়ই ট্রাকচালক সবুজ প্রামাণিককে মারধরের ঘটনা ঘটে।
পরে সবুজ ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রাতে নিজেই বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
এদিকে ময়লা পরিবহন বন্ধ থাকায় দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান না হলে দুই বাজার ও আশপাশের এলাকায় আরও ময়লা জমে জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
