হাসপাতালে এমপির পরিদর্শন ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের হাতাহাতি
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ২০:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে সংসদ সদস্যের পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে ভুয়া আইডি কার্ডধারী একজনকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যায়।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের হাসপাতাল পরিদর্শনকালে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সংসদ সদস্যকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করেছে জামায়াত। তবে বিএনপি নেতাদের দাবি, তাদের এক কর্মীকে মারধরের কারণেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খান ও তার সঙ্গে থাকা জামায়াতের নেতাকর্মীরা হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। প্রথমে তারা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বেলাল হোসেনের কক্ষে যান। সেখানে চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। তবে হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর রয়েছে দেখতে পান তারা। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসকের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য।
এরপর সংসদ সদস্য ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা হাসপাতালের নতুন ভবনের প্যাথলজি বিভাগে যান। সেখানে একজনকে হাসপাতালের অ্যাডমিশন/আইডি কার্ড ছাড়া দেখতে পান তারা। তাকে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি হাসপাতালের একজন কর্মীর আইডি কার্ড দেখান।
পরে কার্ডটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেখানো হলে সেটি ভুয়া বলে জানানো হয়। এ নিয়ে ওই ব্যক্তি ও পরিদর্শনকারী দলের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের এক কর্মী তাকে কয়েকটি থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে সংসদ সদস্য ও তার সঙ্গে থাকা জামায়াতের নেতাকর্মীরা কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ওজোপাডিকো কার্যালয়ের দিকে যান। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের বাইরে থেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম এবং সদর থানা পুলিশের একটি দল পৌঁছায়। পরে পুলিশ ও বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হুছাইন বলেন, ‘হাসপাতাল দালালমুক্ত করার জন্যই সংসদ সদস্য পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। পরে উভয় দলের নেতারা বসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।’
তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল যেকোনো মূল্যে দালালমুক্ত করা হবে। সেখানে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা মবের সৃষ্টি করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম বলেন, সেখানে কোনো মবের সৃষ্টি হয়নি। জামায়াত নেতাকর্মীরা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজনকে মারধর করেন। এজন্যই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বিএনপি নেতাদের দূরদর্শিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা দায়ী।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হাসপাতালে সব কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।
